তিন বছরে তিন গুণ গ্রাহক বৃদ্ধির লক্ষ্য মাহিন্দ্রার

Åবাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোগ

Åমাহিন্দ্রার শীর্ষ তিনটি বাজারের একটি বাংলাদেশ

Åসিকেডি অপারেশন চালু

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের বাজারে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠছে মাহিন্দ্রা। অটোমোবাইল জগতে বিশেষ করে ট্র্যাক্টর নির্মাণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করা কোম্পানি মাহিন্দ্রা এন্ড মাহিন্দ্রা বাংলাদেশে বাজার প্রসারিত করছে। আগামী তিন বছরে তিনগুণ গ্রাহক বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে কোম্পানিটি। ‘বিল্ট ইন বাংলাদেশ’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সিকেডি অপারেশন চালু করেছে। একই সঙ্গে ট্র্যাক্টর সেগমেন্টের নেতৃস্থানীয় পণ্যগুলোর সুবিধা সমপ্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে।

ঢাকায় মাহিন্দ্রার কর্মকর্তারা জানান, কৌশলগত বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই মাহিন্দ্রার লক্ষ্য স্থানীয়করণের মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো। মাহিন্দ্রা সর্বপ্রথম চালকবিহীন ট্র্যাক্টর প্রযুক্তি প্রচলনকারী প্রতিষ্ঠান। ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গ্রুপ অব কোমপানিজ মাহিন্দ্রা তুলে ধরেছে উদ্ভাবনী মবিলিটি সল্যুশনস্। ১৯৯৪ সাল থেকে ভারত হতে বাংলাদেশে পূর্ণ পরিসরে পণ্য ও সেবা সরবরাহের বৈশ্বিক কোমপানি হিসেবে কাজ করছে মাহিন্দ্রা।

বাংলাদেশের আটটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসাখাতে মাহিন্দ্রার উপস্থিতি রয়েছে। এগুলো হচ্ছে টু-হুইলারস, বাণিজ্যিক বাহন, ব্যক্তিগত যানবাহন, ট্র্যাক্টর এবং কৃষি ব্যবসা, নির্মাণ উপকরণ, আইটি ও সোলারসহ পাওয়ারোল জেনসেট। গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমপানিটি বিশ্বস্ত অংশীদারদের গভীর নেটওয়ার্কগুলো কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সেগমেন্টে গ্রাহকদের নতুন নতুন পণ্য সরবরাহ করছে।

‘বিল্ট ইন বাংলাদেশ’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সিকেডি অপারেশন চালু করেছে এবং ট্র্যাক্টর সেগমেন্টের নেতৃস্থানীয় পণ্যগুলোর সুবিধা সমপ্রসারিত করার পরিকল্পনা করেছে। এটি শুধু দেশে শিল্প প্রবৃদ্ধিকে সক্ষম করবে না, বরং স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং গ্রাহক পর্যায়ে উপযুক্ত মূল্যে সেরামানের পণ্য নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশ জুড়ে মাহিন্দ্রার ২৬টি এক্সক্লুসিভ ওয়ার্কশপ আছে। মাহিন্দ্রা ভেহিকেলস-এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির ১৫টি অনুমোদিত সার্ভিস স্টেশন-এর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক আছে। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাহিন্দ্রার ১৫ বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি রয়েছে। এছাড়াও মাহিন্দ্রা ২৪x৭ মাহিন্দ্রা কেয়ার মোবাইল সার্ভিস ভ্যান-এর সাহায্যে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে। 

মাহিন্দ্রা দীর্ঘ সময়ের এই পথচলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএন্ডডি)। পণ্যের ত্রুটি নির্ণয় ও মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে মাহিন্দ্রা রিসার্চ ভ্যালি (এমআরভি)। একটি পণ্য চূড়ান্ত ত্রুটি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয় এই ভ্যালিতে। পণ্যের নকশা আসার পর সেটি প্রস্তুত করে গবেষণার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। পণ্যের ফিজিবিলিটি, পণ্য তৈরির পর কী কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে সেসব পরীক্ষা করা হয় এই কেন্দ্রে। সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পণ্যটি বাজারে নিয়ে আসার পরবর্তী পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। আর কোনো পণ্যের ত্রুটি ধরা পড়লে সেটি হয়ত বাজারে আলোর মুখই দেখতে পায় না।

মাহিন্দ্রা এন্ড মাহিন্দ্রা লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল অপারেশন্স (দক্ষিণ এশিয়া) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় জাদভের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকা অফিস জানায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিগত ২৫ বছরের এগিয়ে যাওয়ার গল্পের অংশীদার হতে পেরে মাহিন্দ্রা গর্বিত। আমরা আটটি ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসা সমপ্রসারিত করেছি; যার মধ্যে টু-হুইলারস, বাণিজ্যিক বাহন, ব্যক্তিগত যানবাহন, ট্রাক ও বাস, ট্র্যাক্টর, জেনসেট ও সিই উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ মাহিন্দ্রার শীর্ষ তিনটি বাজারের একটি এবং আগামী তিন বছরে তিনগুণ গ্রাহক বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছি। আমাদের পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশে অনেকগুলো পণ্য ধারাবাহিকভাবে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত বাহন মারাজ্জো, যা আরামদায়ক এবং নিরাপদ ড্রাইভিং নিশ্চিত করবে। এছাড়া আইসিভি সেগমেন্টে ফুরিও, তিন চাকার বাহন ক্যাটাগরিতে ট্রিও, জেনসেট ক্যাটাগরিতে ৫ কেভিএ-২৫০/৩২০ কেভিএ এবং ট্রাক্টর সেগমেন্ট বাড়ানো ইত্যাদিও বিবেচনাধীন রয়েছে।