আমার পরিবারে তখন টেলিভিশন ছিলো না, পত্রিকার প্রথম পাতায় তখন পড়েছিলাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ঘটনা। আমার কাছে তখনই মনে হয়েছিলো আমার বন্ধুরা হয়তো ‘জিহাদ’ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সেই হামলা কীভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উপর প্রভাব ফেলেছিলো তার বর্ণনায় এসব বলেন ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক কট্টরপন্থী গোষ্ঠী জিমাহ ইসলামিয়ার (জেআই) সদস্য আলি ইমরন।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে সেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০২ সালে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন ইমরন। ওই হামলায় অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দেওয়া আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ আছে জেআই এর।
ইন্দোনেশিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটির পাবলিক পলিসির সরকারী অধ্যাপক কুইনটন টেম্বলি জানান, জেআই এই প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ শুংকার মৃত্যুর ২ বছর পর ৯/১১ হামলা হয়। তার মৃত্যুর পর আবু বকর বশির সংগঠনটির দায়িত্ব নেন। ৯/১১ হামলার পরপরই আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একসঙ্গে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করছিলেন আবু বকর বশির। যা জেআই-কে দ্বিবিভক্ত করে দেয়।
টেম্বলি আরও জানান, জেআই আসলে আল কায়েদার অধিভুক্ত ছিলোনা বরং ভোটার হিসেবে কাজ করেছে। ৯/১১ হামলাকারীদের মালয়েশিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলো তারা। হামলার পর জেআই ছাড়াও আরও বেশ কিছু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী উত্সাহিত হয়। সংগঠনগুলোর বেশিরভাগ সদস্যই সেই হামলার সফলতা দেখে বিস্মিত হয়েছিলো।
আলি ইমরন
সেই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে আল কায়েদার সঙ্গে কাজ করেছে জেআই ও ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক বিভিন্ন কট্টরপন্থী সংগঠন। এমনকি ওই অঞ্চলে বিভিন্ন হামলায় অর্থ যোগানের কাজও করেছে উভয় পক্ষ।
৯/১১ ঘটনা জেআইএর সদস্যদের অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে ইমরন বলেন, অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের আল কায়েদার কাজটি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছে। সেই ঘটনাকে উৎসর্গ করেই বালিতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করে জেআই।
ইমরন আরও বলেন, আমার এখনও মনে আছে। সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখেই বালিতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার ১ বছর উদযাপন করা। কিন্তু হাতে যথেষ্ট সময় না থাকায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। হামলার আগে আমরা একাধিকবার ৯/১১ এর বিভিন্ন ভিডিও দেখেছি। আমাদের হামলাকারীরা তাতে মোটেও আতংকিত হয়নি বরং আরও উৎসাহত হয়েছে।
ইত্তেফাক/টিআর