ইত্তেফাক রিপোর্ট
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারত সফরকালে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে আমরা আশাবাদী। গতকাল শনিবার ভারত সফর শেষে ঢাকায় ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শুধু তিস্তা নয়, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যারও সমাধান চাই। এ বিষয়েও কথা বলেছি। ভারত সফর সফল দাবি করে তিনি বলেন, সেখানে খুব আন্তরিক ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আমরা চাই রোহিঙ্গারা তাড়াতাড়ি নিজ দেশে ফিরে যাক। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সে সব বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ভারতকে একটি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ এলাকা তৈরির জন্য এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সেখানে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায়। ওই এলাকায় রোহিঙ্গারা নির্ভয়ে, নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারছে কিনা তা দেখভালের দায়িত্ব নিতে পারে মিয়ানমারের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো। এর মধ্যে ভারত, চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থাকতে পারে। শুক্রবার বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাঁর সম্মানে দেওয়া নৈশভোজের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন এ কথা জানান। বাংলাদেশে হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এই নৈশভোজের আয়োজন করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একে ‘উদ্ভাবনী (ইনোভেটিভ) প্রস্তাব বলে মন্তব্য করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও এই প্রস্তাবে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এই বিষয়ে বলার পর সুষমা স্বরাজ বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তো আপনার বন্ধু। প্রস্তাবটি তাকে দিচ্ছেন না কেন? জবাবে বলেছি, প্রস্তাবটা ভারতের কাছ থেকে গেলে মিয়ানমার বেশি গুরুত্ব দেবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী চারদিনের সফরে গত বুধবার ভারতের নয়াদিল্লি যান। শুক্রবার তিনি দুই দেশের যৌথ পরামর্শক কমিশন-জেসিসি বৈঠকে যোগ দেন। তার উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তার প্রথম বিদেশ সফর।