এয়ার হোস্টেস পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে

ছোট থেকেই বড় হয়ে কি হবে এই নিয়ে অনেকের দুচোখে রঙিন স্বপ্ন থাকে। যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক বা অফিসার ইত্যাদি। তবে যারা আকাশ ছোঁওয়ার প্রত্যাশায় থাকেন তাদের কাছে এয়ার হোস্টেস বা বিমানসেবিকার চাকরি।

যাত্রীদের আবশ্যকীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত করানো, আপদকালীন ব্যবস্থা নিয়ে জানানো, দেখভাল করা সবই তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শত ঝঞ্ঝাট এর মধ্যেও সর্বদা হাসিমুখে তাদের কাজ করে যেতে হয়। চলুন, জেনে নি নিন এই বিশেষ পেশায় আসতে গেলে কি কি করতে হবে।

চাকরির বৃত্তান্ত

বিমানসেবিকাদের ওয়েট্রেস অফ দ্য এয়ার বলা হয়ে থাকে। চলাফেরা, কথাবার্তা, সেবাদান সবকিছুই কঠোর নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এই স্মার্ট কেরিয়ারে।এই পেশায় যারা আসতে চান তাদের একটা ভালো পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন। যোগদানের আগে জব প্রোফাইল সম্বন্ধে একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকলে ভবিষ্যতে কাজকর্মে অনেকটাই সুবিধে হয়।

উপস্থিতি যথেষ্ট গোছালো ও ব্যবস্থাপনার নিঁখুত বৈশিষ্ট আরোহীদের কমফর্টেবল অনুভুতি ও স্বাচ্ছন্দ বিধান করা আনুসঙ্গিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। চুলের ফ্যাশন ও মেকাপ বিশেষ যত্নে গড়ে তুলতে হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অন্যান্য

এইচএসসিতে প্রতি বিষয়ে বি গ্রেড এবং একইভাবে ‘এ’ লেভেল পাস করতে হবে। তবে কখনও কখনও গ্র্যাজুয়েশন এবং মাস্টার্সও চায় চাকরিদাতা কর্তৃপক্ষ। 

আপনার বয়স হতে হবে ন্যূনতম ১৮ বছর। বাংলাদেশি পাসপোর্ট লাগবে । তবে স্মার্টনেস, ভালো ইংরেজি বলার দক্ষতা এগিয়ে রাখবে এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রু পেশার প্রতিযোগিতায়। উপস্থিত বুদ্ধি, ধৈর্য ও সহনশীলতা, যে কোনো পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা, বিরক্তির মুহূর্তেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার ক্ষমতা এই চাকরিতে সফলতা এনে দেবে।

দৃষ্টি
কাজের সংশ্লিষ্ট চাহিদার কারণেই চোখের দৃষ্টি প্রখর হওয়া শ্রেয়। বর্ণান্ধতা থাকা চলবেনা।

ভাষাজ্ঞান
এয়ার লাইন্স এর পরিধি সারাবিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকায় কথোপকথন এর জন্য ও অনান্য আনুসঙ্গিক কাজ করার জন্য ইংরেজি বলতে, লিখতে ও পড়তে খুব ভালোভাবে জানা দরকার। এছাড়াও বিদেশী কিছু ভাষা যেমন রাশিয়ান, জার্মান, ফ্রেন্চ ইত্যাদি জানা থাকলে বা এগুলোর উপর কোর্স করা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

ফিটনেস
সম্পূর্ণ শারীরিক সুস্থতা একান্তভাবেই কাম্য। বহাল করার আগে মেডিকেল টেস্ট করিয়ে নেওয়া হয় তাতে উত্তীর্ণ হতে হয়। কোনোরকম মানসিক অসুস্থতার রেকর্ড থাকা যাবে না।

আচরণগত গুণাবলী
এই পেশায় আচরণের গুরুত্ব সবচয়ে বেশি। যোগ্যতার থেকেও বেশি অনুশাসনের উপর জোর দেওয়া হয় তাই কিছু শর্ত স্বাভাবিকভাবেই অন্যতম যোগ্যতা হিসেবে উঠে আসে।ব্যক্তিত্বের মাধুর্য, ভাষাগত জ্ঞান ও কমিউনিকেশন স্কিল এর উপর নজর দেয়া হয়।

উপস্থিত বুদ্ধি: ফ্লাইটে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে অথবা ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং অথবা প্যাসেঞ্জার অসুস্থ হলে বা প্যানিক করলে কখনো মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে তাদের সহযোগিতা করা আবার কখনো ভাবনাচিন্তার অভিনবত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হয়।

টিম ওয়ার্ক: বিমানে কেবিন ক্র’দের সাধারনত ১২-১৪ জনের টিম থাকে। তাই দৈনিক কাজ ও দায়িত্ব একে অপরের সাথে বোঝাপড়া ও সদ্ভাব বজায় রাখা উহ্য হয়ে পড়ে।

পজিটিভিটি: যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে কাজ করতে হয়। মোদ্দা কথা হলো ওয়ার্কলোড নেবার।

ধৈর্য: প্যাসেঞ্জারদের হাজার আবদার সামলানো হোক বা ফ্লাইট ডিলে বা টেকনিক্যাল সমস্যা এসবের ক্ষেত্রে সব পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেবার মত ধৈর্য্য ও মানসিক কাঠিন্য রাখতে হয়।

ইত্তেফাক/এফএস