বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চার মেম্বারের বিরুদ্ধে। এমনকি মৃত মানুষের টাকাও ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে পকেটস্থ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর দেওয়ার ক্ষেত্রেও উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে কারও কারও বিরুদ্ধে। অন্যদিকে সরকারের দেওয়া ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীরা। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু তার তদন্ত এখনো শুরু হয়নি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চারিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার চতু মিয়া ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল লতিফ এসব ভাতাভোগীদের বই নিজেদের কাছে রেখে আনুমানিক লক্ষাধিক টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন। এদিকে ভাতার বই ভাতাপ্রাপ্তদের কাছে পৌঁছে না দেওয়ায় কে কত টাকা ভাতা পাচ্ছেন তার কিছুই জানতে পারছেন না তারা। জানা গেছে, অন্তত ২০ জনের ভাতা প্রদান না করে আত্মসাত্ করেন উক্ত জনপ্রতিনিধিরা। দাশের হাটি গ্রামের মোকছেদ আলী জানান, তার পিতা আব্দুল আলী গত জুন মাসের ১৬ তারিখে মারা গেছেন। বয়স্ক ভাতাভোগী হিসেবে বই নং ৭০৮৬ অগ্রণী ব্যাংক, চারিগ্রাম শাখা ৫৫৭ নং একটি একাউন্ট খোলা হয়েছে। অথচ তিনি কোনো ভাতা পাননি। মারা যাওয়ার পর আব্দুল আলীর ভাতার সমুদয় টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন এলাকার মেম্বার আব্দুল লতিফ। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওহাব আলী জানান, ভাতার বই পাইনি এবং কত টাকা ভাতা পাবো তাও জানতে পারিনি। মেম্বার ২২শ টাকা দিয়ে গেছেন এটুকুই বলতে পারি। আরেক ভুক্তভোগী নুরুল হক জানান, ভাতার বই বানানোর কথা বলে টাকা চান মেম্বার। টাকা না দেওয়ায় ৬ হাজার ৪শ টাকা ভাতার বদলে ১৫শ টাকা দিয়ে আমার সই নেওয়া হয়। একই কথা জানালেন নুরুল ইসলাম ও আব্দুল আলীসহ আরো কয়েকজন। অপরদিকে ২নং ওয়ার্ডের বয়স্ক ভাতাভোগী ফালু মিয়ার মেয়ে সুরিয়া বলেন, আমার পিতাসহ আরো ১০/১২ জন ভাতাভোগীর বই চতু মেম্বার নিজের কাছে রেখে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত্ করেন বলে ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চারিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার সাজেদুল আলম স্বাধীন বলেন, শুধু ওই দুই মেম্বাররাই নয় ফালু মেম্বার ও নুরজাহান মেম্বারও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে এবং সরকারের আশ্রায়ন প্রকল্পে ঘর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা লোকজনের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে। এর বিচার হওয়া উচিত। এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে অভিযুক্ত লতিফ মেম্বার ও চতু মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, “সিংগাইরে এসে আপনার সাথে দেখা করে এ ব্যাপারে কথা বলবো।”