বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর সমাপ্ত হইয়াছে শুক্রবার। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে পরাস্ত করিয়া চ্যাম্পিয়ন হইয়াছে। ২০১৫ সালের পরে তাহারা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হইল। কেবল বাংলাদেশের দর্শকই নহে, টেলিভিশন ও অনলাইন সম্প্রচারের মধ্য দিয়া সারা বিশ্বের ক্রিকেট দর্শকই বিপিএলের ম্যাচগুলি উপভোগ করিয়াছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই জমজমাট আসরে ক্রিস গেইল ও সুনীল নারাইনের মতো তারকারা পূর্বের ন্যায় এইবারও খেলিয়াছেন। কিন্তু ষষ্ঠ আসরে প্রথমবারের মতো খেলিয়াছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, অ্যালেক্স হেলসের মতো নামী ও দামি ক্রিকেটাররা। ব্যাটিংয়ে বিদেশিরা দাপট দেখাইলেও, বোলিংয়ে বাংলাদেশি বোলাররাই সর্বোচ্চ উইকেট লইয়াছেন। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি, ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান কিছু রান করিয়া ম্যান অব দ্য সিরিজও হইয়াছেন। ক্রিস গেইল আসর বেশি মাতাইতে না পারিলেও বিদেশি খেলোয়াড় রাইলি রুশো সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করিয়াছেন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করিয়াছেন চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের খেলোয়াড় তামিম ইকবাল। এই টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়া বেশ কিছু স্থানীয় উঠতি খেলোয়াড় পরিচিতি পাইয়াছেন, পুরনো কিছু দেশি খেলোয়াড় পুনর্বার ফর্মে ফিরিয়াছেন।
বিদেশি নামী ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে সময় কাটানোটাই বিরাট এক অভিজ্ঞতার বিষয় হইয়াছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য। বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্যও টুর্নামেন্টটি প্র্যাকটিস করিবার সুযোগ করিয়া দিয়াছে। বিপিএল শেষ করিয়াই জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিউজিল্যান্ড রওয়ানা দিয়াছেন। মার্চ মাসে তাহাদের রহিয়াছে আয়ারল্যান্ড সফর এবং পরিশেষে জুন মাসে ইংল্যান্ডে রহিয়াছে ওয়ানডে ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট। এই প্রত্যেকটি সফরের জন্য এই টুর্নামেন্টটি খেলোয়াড়দের জন্য প্রস্তুতিমূলক হইয়াছে। ২০০৬ সাল হইতে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলিতেছে, কিন্তু এই খেলাটি এখনও ঠিকঠাক রপ্ত করিতে পারে নাই। ২০১৮ সালে ১৬টি ম্যাচ খেলিয়া মাত্র পাঁচটিতে জয়লাভ করিয়াছে। এই বছরেই আফগানিস্তানের সহিত ০-৩ ফলাফলে সিরিজ হারিয়া বাংলাদেশকে লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হইতে হইয়াছে। এইবারের বিপিএল তাহাদের সেই দুর্বলতাগুলি কিছুটা দূর করিয়াছে। বিশেষত সাকিব আল হাসান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রত্যেকেই ভালো বল করিয়াছেন। মুশফিকুর রহমান ভালো ব্যাটিং করিয়াছেন। তবে ফাইনাল ম্যাচে তামিম ইকবালের অতিমানবীয় ইনিংসটি নিশ্চয়ই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ইনিংস। আর বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা জোরের সহিত চার-ছয় মারিতে পারে না, এই দুর্নামও ঘুচাইয়া দিয়াছে টি-টোয়েন্টির এই টুর্নামেন্টটি।
মোটামুটি সফলভাবে সমাপ্ত হইলেও, এইবারের বিপিএলে কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গিয়াছে। অতি ব্যবহারের কারণে মিরপুর স্টেডিয়ামের পিচ অদ্ভুত আচরণ করিয়াছে। কিছু ম্যাচে প্রচুর রান উঠিলেও, বেশ কিছু ম্যাচে একশ’র চাহিতে কম রান হইয়াছে, যাহার ফলে কিছু ম্যাচ বিবর্ণ হইয়া পড়ে। শেষের দিকে দর্শক বৃদ্ধি পাইলেও প্রথম দিকের ম্যাচগুলিতে গ্যালারি বেশ ফাঁকা থাকিয়া গিয়াছে। সম্প্রচারের সময়ে কিছু গ্রাফিক্সে ত্রুটি দেখা যায় (যেমন খালেদ আহমেদ নামক এক খেলোয়াড়ের বয়স ১১৯ দেখানো হইয়াছে)। মাঝেমাঝেই খেলার ভুল স্কোর দেখানো হইয়াছে। বিভ্রাট হইয়াছে খেলোয়াড়দের নাম লইয়াও। আর দুঃসংবাদ এই যে, দারুণ খেলিবার পর শেষদিকে তাসকিন আহমেদ এবং ফাইনাল ম্যাচে সাকিব আল হাসান চোট পাইয়া মাঠের বাহিরে চলিয়া গিয়াছেন। তবুও বলিতে হয়, প্রথম দিকে কিছুটা ম্যাড়মেড়ে ভাব দেখা গেলেও, এইবারের টুর্নামেন্টটি সফল হইয়াছে। সামনের সময়ে এইসকল ভুলত্রুটির দিকে আয়োজকরা লক্ষ্য রাখিবেন এই আমাদের প্রত্যাশা।