বসন্ত উত্সব, ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস সামনে রেখে ব্যস্ত চাষি
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
বসন্ত উত্সব, ভালবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস সামনে করে পশ্চিমের জেলাগুলোতে ফুলের বাজারগুলো জমে উঠেছে। ফুলের দামও চড়ে গেছে। চাষিরা বাজার ধরতে ফুল ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ অঞ্চলে ৭০ কোটি টাকা মূল্যের ফুল কেনাবেচার আশা করছে যশোরের গদখালী ভিত্তিক ফুল চাষি সমিতি।
পশ্চিমের যশোর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বেশি পরিমাণ ফুল চাষ হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ৬৩২ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ২৫০ হেক্টরে ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৮০ হেক্টরে ফুল চাষ হয়েছে। ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসরা গ্রামের শের আলি প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রজনীগন্ধা ফুলের চাষ শুরু করেন। তার দেখাদেখি আশেপাশের গ্রামের চাষিরা ফুল চাষে ঝুঁকে পড়ে। আস্তে আস্তে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও ফুল চাষের প্রসার ঘটে। ফুল একটি অর্থকরি কৃষি পণ্যের রূপ পায়। ফুলের বাজারেরও ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। জেলা, উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে ফুলের দোকান গড়ে উঠেছে। সারা বছর জুড়ে ফুল কেনাবেচা হয়। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে বেশি কেনা বেচা হয়ে থাকে। গদখালী কেন্দ্রিক ফুল চাষি সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, প্রতি পিস গোলাপের দাম ছিল দেড় টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ১০/১২ টাকা। প্রতি পিস জারবেরার দাম ৩ টাকা থেকে চড়ে ৮ টাকা হয়েছে। প্রতি পিস গ্লাডিওলাস ফুলের দাম ৪ টাকা থেকে বেড়ে ১০ টাকা হয়েছে। এক ঝোপা গাঁদা ফুলের দাম ছিল ৫০/৬০ টাকা। এখন বেড়ে আড়াই’শ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, এবার এ মাসে ৭০ কোটি টাকা মূল্যের ফুল বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে চাষিদের।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে গাঁদা ফুল চাষে খরচ হয় ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা। ফুল বিক্রি করে আয় হয় এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। গোলাপ চাষি কামরুল হাসান বলেন, এক বিঘা জমিতে গোলাপ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে এক লাখ টাকা। ক্ষেত থেকে পাইকারি প্রতি পিস গোলাপ ১০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গোলাপ চাষ লাভজনক বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা ফুল চাষে ঝুঁকছেন। বিভিন্ন স্থানে ফুল কেনাবেচার পাইকারি বাজার বসেছে। পাইকার ব্যবসায়ীরা ফুল কিনে দেশের বিভিন্ন শহরে চালান পাঠাচ্ছে।