চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও শিবগঞ্জ সংবাদদাতা
শিবগঞ্জে পাটের উত্পাদন ও ভালো দামে কৃষকরা খুশি। পাট কাটা, জাগ, আঁশ সংগ্রহ, খড়ি শুকানোসহ পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উপজেলার কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন ও দাম বেড়েছে।
পাটচাষি সেলিম আলী জানান, এ বছর দেড় বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। ১০ কাঠার পাট কেটে বিক্রি করে দাম পেয়েছি ১৩ হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমির পাট কেটে শনিবার জাগ দিচ্ছি। এবার পাটের ফলন ও দাম বেশ ভালো। আশা করছি এই এক বিঘা জমির পাটে আরো ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পাব। আর আমার তিন বিঘা জমির পাট চাষে মোট খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। রুবেল নামের আরো এক পাটচাষি জানান, তিনি ১২ কাঠা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এ বছর এতে পাট হয়েছে প্রায় পাঁচ মণ, বিক্রি করেছেন সাড়ে ১২ হাজার টাকায়। আর পাটখড়ি হয়েছে সাড়ে তিন মণ, বিক্রি করেছেন ১ হাজার টাকায়।
কানসাটের পাটের আড়তদার হাসান আলী জানান, গত বছর এ সময় পাট কিনেছিলাম ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩০০ টাকা মণ, এবার ২ হাজার ৫০০-২ হাজার ৭০০ টাকা মণদরে কিনছি। আর পাটখড়ি কিনছি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা মণদরে। পাটের দাম এ বছর প্রথম থেকেই ভালো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, শিবগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে পাট চাষ হয়। উপজেলায় এ বছর ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ২০০ বিঘা বেশি উত্পাদন হয়েছে। আঁশ সংরক্ষণ শেষে কেউ কেউ পাট বিক্রিও শুরু করেছেন। এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে দুই থেকে সোয়া দুই টন পাট উত্পাদিত হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় এবার পাট চাষ বেশি। তিনি বলেন, গত বছরের শেষদিকে ভালো দাম পাওয়ায় এবার পাট বেশি চাষ করেছিলেন চাষিরা। এবারও দাম বেশ ভালো। এতে চাষিরা অনেক লাভবান হবেন।