সামান্য পতনে বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা

 

 সাপ্তাহিক শেয়ারবাজার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

টানা ছয় সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গেল সপ্তাহ কিছুটা পতনের মধ্য দিয়ে পার করেছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে এক সপ্তাহে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা কমে গেছে। এর আগে টানা ছয় সপ্তাহের উত্থানে ডিএসইর বাজার মূলধন ৫০ হাজার কোটি টাকার ওপরে বাড়ে। গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা। যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। অর্থাত্ গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১১ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। আগের ছয় সপ্তাহে বাজার মূলধন বাড়ে ৫১ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা মূলধন বাড়ার পর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা কমল। বাজার মূলধন বাড়া বা কমার অর্থ তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দাম সম্মিলিতভাবে ঐ পরিমাণ বেড়েছে বা কমেছে। অর্থাত্ বাজার মূলধন বাড়লে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ বেড়ে যায়।

এদিকে গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮২টির। আর ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩০ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট বা দশমিক ৪২ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২৭৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

অপরদিকে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের সপ্তাহেও বেড়েছে। সপ্তাহ জুড়ে এই সূচকটি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১৫০ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২২৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২ হাজার ৭৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাত্ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ১২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১৩ হাজার ৮৮৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

গত সপ্তাহের ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহ জুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৮ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩৬ কোটি ২৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০৩ কোটি ৮৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। এছাড়াও লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—সাইফ পাওয়ার টেক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, লাফার্জাহোলসিম বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ও ডেল্টা লাইফ ইনসিওরেন্স।