মাহবুব শরীফ
ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০১৯ সামনে রেখে গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন (ইসাব)।
এতে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর মহাপরিচালক ব্রিঃ জেনারেল আলী আহমেদ খান, ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইসাব) এর প্রেসিডেন্ট মো. মোতাহার হোসেন খানসহ আরও অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছরে ৬ষ্ঠ বারের মতো তিন দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০১৯-এর আয়োজন করতে যাচ্ছে সংগঠনটি। যা আগামী ১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি-২০১৯, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এক্সপোর উদ্বোধন করবেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন র্যাব মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, বিপিএম (বার), বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিঃ জেনারেল আলী আহমেদ খান, পিএসসি, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
গতকাল অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের তথ্যমতে ২০১৮ সালে দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে ১৯ হাজার ৬শ ৪২টি। এতে নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছে ১৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৬৪ জন মানুষ। আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩শ ৮৬ কোটি টাকা। তবে গত পাঁচ বছরে এ ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। রাজধানী, বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জে আগুনে পুড়ছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, অফিসসহ অন্যান্য স্থাপনা। সচেতনতা ও অগ্নিকাণ্ডের কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশিক্ষণসহ নির্বাপণের সরঞ্জাম রাখলে আগুনের ভয়াল থাবা থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ক্রেতাদের চাপে রপ্তানিমুখী শিল্প-কারখানার বেশিরভাগেই অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক ভবন, প্রতিষ্ঠান এখনো পিছিয়ে আছে। দশ বছরের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, কেবল রাজধানীতে এই সময়ে উচ্চ ভবনের হার বেড়েছে ৫১৪ শতাংশ। এসব ভবনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা কতটুকু জোরদার করা গেছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বিদ্যমানসহ নির্মিত সকল উচ্চ ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সম্পদ ও নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সবার নৈতিক দায়িত্ব বলেই আমরা মনে করি।
এবারের এক্সপোতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মান, ইতালি, তাইওয়ান, তুরস্ক, চীন, ভারতসহ ২৬টি দেশের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির খ্যাতিমান ব্রান্ড প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রদর্শিত হবে। এক্সপোতে মোট স্টল থাকছে ৭০টি। মেলার কো-পার্টনার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, অ্যাসোসিয়েট পার্টনার বিটিএমএ, কল-কারখানা অধিদপ্তর ও এনএফপিএ (ইউএসএ)। সাপোর্ট পার্টনার র্যাব ফোর্সেস।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ২.৩০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৬ষ্ঠ ইন্টারন্যাশনাল ফায়ার সেফটি এন্ড সিকিউরিটি এক্সপো-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ব্যবস্থার বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়ার আদর্শ স্থান হয়ে উঠবে এবারের এক্সপো। জনসাধারণ এই মেলা থেকে জানতে পারবেন আন্তর্জাতিক বিশ্বে ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির খাতের উদ্ভাবিত সর্বশেষ প্রযুক্তি ও পণ্যের বিষয়ে। এছাড়া এসব ব্যবহারের জ্ঞান অর্জন ছাড়াও মেলা থেকে অগ্নি নির্বাপণ ও সিকিউরিটি পণ্যের স্থাপন বিষয়ে ধারণা পাবেন এক্সপো থেকে। মেলায় অগ্নি-নির্বাপণের মহড়া থাকবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে। এছাড়া এবারের এক্সপোতে ৪টি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
এক্সপো সম্পর্কিত সকল তথ্য জানা যাবে www.ifsse.com ঠিকানায়।