সরকারি গ্রন্থাগারগুলো ছাড়া বিভিন্ন স্থানে যেসব ছোট ছোট গ্রন্থাগার স্থানীয় মানুষের আনুকূল্যে, উত্সাহে ও স্বেচ্ছাশ্রমে পুষ্ট হয়ে সুচিন্তনের ফসল বুনেছিল, আজ তারা সকলেই ধুঁকছে। এর অন্যতম কারণ লোকবল ও পর্যাপ্ত অর্থানুকুল্যের অভাব। ফলস্বরূপ, আকস্মিক বদলে যাওয়া মধ্যবিত্ত সমাজে পাঠাগারগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও মানুষের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য হতে পারছে না। অনেকেই পাঠাগারগুলোর প্রধান শত্রু হিসেবে নির্বাচন করেন টেলিভিশন সিরিয়ালগুলোকে। কিন্তু ডিম ও মুরগির প্রাচীন ধাঁধার মতো উত্সাহী পাঠক ও পাঠাগারের মানোন্নয়ন—কোনটি আগে আসবে, এই ধন্দ থেকেই যায়।
পাঠাগারভক্তের সুবাদে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মানুষ ফোন করে পাঠাগারের বিষয়ে খোঁজ নেন। তখন আশা জাগে, পাঠাগার বাঁচিয়ে রাখতে অনেকেই এগিয়ে আসবেন। কিন্তু প্রতিবারই জানা যায়, বাড়িতে জঞ্জালের মতো পড়ে থাকা কিছু বই পাঠাগারে অনুদান দিয়ে সামাজিক গুরুদায়িত্ব পালন করতে চান তাঁরা। পুস্তকসংক্রান্ত সামগ্রিক খরচ যেভাবে বেড়েছে ও গত এক দশকে সাধারণ মানুষের সক্রিয়তা যেভাবে সমাজ মাধ্যমে আটকে পড়েছে, গুটিকয়েক স্বেচ্ছাসেবক ও সামান্য পুঁজি নিয়ে পাঠাগারগুলোর প্রাথমিক ও একমাত্র চ্যালেঞ্জ এখন বেঁচে থাকা। পাঠাগারগুলোতে কী কী খামতি আছে তা প্রায় সবাই জানেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথও দুর্জ্ঞেয় নয়। প্রধান অভাব কর্মীর, প্রধানত উত্সাহী স্বেচ্ছাসেবকের। অর্থকরী সমস্যাও কিছুটা অতিক্রম করা যায় যা হলে। পাঠাগারের মতো যথার্থ মানুষ গড়ে তোলার এমন একটি উপকরণ সমাজ থেকে যে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে, এর দায় হয়তো একদিন সবাইকেই চুকাতে হবে।
আরিফ আনজুম
শিবগঞ্জ, বগুড়া