বাংলাদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের চাকরি পাওয়ার অন্তরায় অভিজ্ঞতা। তাই অভিজ্ঞতা বাড়ানোর কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় অনেক মুনাফাধারী এবং সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য বাধ্য হয়েই ইন্টার্ন হিসেবে যোগ দিতে হয়। চাকরি নামক সোনার হরিণে যে সেটি খুব প্রয়োজনীয়। তবে এক্ষেত্রে অনেক মুনাফাধারী প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বিনামূল্য ইন্টার্ন নিয়োগ দিয়ে থাকে। দেখা যায় যে, দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা করে কাজ করে সাপ্তাহিক ৩৫ ঘণ্টার কাজের জন্য ইন্টার্নরা পাচ্ছে না কোনো অর্থ। অথচ একই কাজে সেইসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃতরা পাচ্ছে মোটা অঙ্কের বেতন। কিছু কিছু কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান স্বল্প কিছু সম্মানী প্রদান করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ইন্টার্নদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় এইসব প্রতিষ্ঠান। চাকরির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় স্নাতক প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ থেকেই অনেক শিক্ষার্থী যোগ দেয় বিভিন্ন কোম্পানির ইন্টার্নশিপে। তবে তাদের দ্বারা নিয়োগকৃতদের মতো কাজ করালেও তাদের দেওয়া হয় না কোনোরকম অর্থ। কিন্তু ইন্টার্নদের কাজের বিনিময়ে ঠিকই মুনাফা লাভ করে কোম্পানিগুলো। তাই অভিজ্ঞতা অর্জনের এই পাটফর্মের জন্য চাই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা। বাধ্য হয়ে বিনামূল্যে ইন্টার্নশিপে যোগ দিলেও তাদের একটা প্রত্যাশা থাকে অর্থপ্রাপ্তির এবং সেটার যোগ্য দাবিদারও তারা। তাই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ—যাতে ন্যূনতম একটি সম্মানী নির্ধারিত হয় ইন্টার্নশিপের ইন্টার্নদের জন্য এবং বাস্তবায়িত হয় এর সঠিক কর্মপরিকল্পনা।
মোহাম্মদ ইয়াছিন ইসলাম
শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,
ঢাকা