ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
অসংখ্য নদ-নদীর দেশ বাংলাদেশ এগিয়েছে নদীকে বাদ দিয়েই। তাই নদীও প্রতি বছর এসেছে ভয়াল রুদ্র মূর্তি নিয়ে। এমনই একটি অবহেলিত যমুনা নদী। নদীর একেকটি জেগে উঠা চর একেকটি দ্বীপের মত পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত নাব্য না থাকার কারণে যমুনা নদীতে নৌ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মাঝ নদীতেই আটকে যাচ্ছে নৌকা। নদীতে চর জেগে উঠায় নৌকাগুলো বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে দিয়েছে মালিকরা। দু’একটি নৌকা পালা-বদল করে চলাচল করছে। নির্ধারিত কোনো ঘাট না থাকায় নৌকা চালকরা সুবিধামত মানুষ নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে কষ্ট করে নৌকায় উঠা-নামা করতে হচ্ছে চরের মানুষের। উপজেলার গাবসারা ও অজুর্না এই দুইটি ইউনিয়নে চর জেগে উঠেছে। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় এর মালিকরা ভিন্ন পেশায় চলে গেছে। জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। বাস্তুহারা হয়ে যায় শত শত পরিবার। আবার শুষ্ক মৌসুমে সেই এলাকা বিশাল চরে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে বিশাল চর পাড়ি দিয়ে নৌকাঘাটে এসে এরপর তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। চরাঞ্চলের অনেকে জানান, চরে বাস করতে করতে কষ্ট কি জিনিস ভুলে গেছি। যাতায়াতের সমস্যার কারণে ডেলিভারি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। এখন খরা মৌসুম তাই মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয়। তাদের অভিযোগ চরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, যাতায়াত, দুর্যোগকালীন নিরাপত্তা অনেক সমস্যা এখনও রয়েছে। ফলে চরের চারদিক বেড়িবাঁধ দিয়ে যমুনার ভাঙন ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে চরের মানুষকে রক্ষার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।
উপজেলার চরাঞ্চলের গাবসারা মাদরাসার শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নদীতে চর জেগে উঠায়। চরচন্দনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুল ইসলাম বলেন, কষ্ট হলেও যেতে হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। মাঝ নদীতেই নৌকা আটকে পড়ে। শুকনা মৌসুমে কষ্টটা বেশি সবচেয়ে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফিজুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশের নদী শাসনের কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। তবে উপজেলার কুঠিবয়ড়াসহ কয়েকটি স্থানে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হয়েছে। তবে এর আগে কয়েকটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হলেও সেগুলো পাস হয়নি।