১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠনগুলোর ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, এ ঘটনার সন্তোষজনক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকদের আন্দোলন চলবে। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল। জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।
এ সময় সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ করোনাকালে সাংবাদিকরা সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার যখন কাজ করছে, দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে তখন সাংবাদিক সমাজ সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সেই সময় একটি গোষ্ঠী সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন সাংবাদিক নেতারা।
সাংবাদিকরা বলেন, রাষ্ট্র যে কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে। কিন্তু এখানে সংগঠনকে লক্ষ্য করে যেভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেটি নোংরা ষড়যন্ত্রের অংশ। এটা প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাংক হিসাবে কী তথ্য পাওয়া গেল, সেটি প্রকাশের দাবি জানান নেতারা।
সমাবেশে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ব্যাংক হিসাব চাওয়ার বিষয়টি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী জানেন না। তাহলে আমরা কোথায় যাব। এখানে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এতে সরকারের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।
সমাবেশে প্রবীণ সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এটা করা হয়েছে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সিনিয়র সাংবাদিক সোহরাব হাসান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক মাঈনুল আলম ও কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী, অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের চিফ রিপোর্টার আবুল খায়ের, বিএফইউজের একাংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ, বিএফইউজের অন্য অংশের সভাপতি এম আব্দুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সম্পাদক ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ক্র্যাবের সভাপতি মিজান মালিক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউর সভাপতি মোরসালীন নোমানী, সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, ডিইউজের যুগ্ম- সম্পাদক খায়রুল আলম, অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি শারমিন রিনভী প্রমুখ।
উিএসইসির উদ্বেগ
১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল (ডিএসইসি)। আজ রবিবার কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের পল্টনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়, প্রচলিত আইনে কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হতে পারে। কিন্তু শুধু একটি পেশার ১১ জন শীর্ষ নেতার ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলব উদ্দেশ্যমূলক, যা অতীতে কখনো কোনো সময় কোনো পেশার ক্ষেত্রে ঘটেনি। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা পেশার ওপর চাপ ও হুমকি স্বরূপ।
সংগঠনের সভাপতি মামুন ফরাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হূদয়ের সঞ্চালনায় সভায় সহসভাপতি আনজুমান আরা শিল্পী, কোষাধ্যক্ষ অলক বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম সেতু, দপ্তর সম্পাদক মনির আহমাদ জারিফ, প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর কবীর, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক লাবিন রহমান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পদাক তৌফিক অপু, কার্যনির্বাহী সদস্য ফারজানা জবা, আব্দুর রহমান, আবুজাফর সাইফ উদ্দিন, সাফায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।