উত্সবের বৈচিত্র্যময় পোশাক

উত্সবের আনন্দকে পরিপূর্ণ করতে চাই নতুন পোশাক। আসছে পূজা উত্সবের পোশাকে থাকতে হবে নতুনত্ব, সাথে নজরকাড়া ডিজাইন। মেয়েদের উত্সবের ফ্যাশনের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ সালোয়ার-কামিজ। পূজা উত্সবের  নান্দনিক পোশাকের খবর নিয়ে লিখেছেন সাবেরা সুলতানা

 

আর কিছুদিন পরেই দুর্গাপূজা। এই উত্সবকে কেন্দ্র করে এবারের পোশাকগুলোতে দেখা যাচ্ছে রঙের বাহার। উত্সবের পোশাক হিসেবে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার থাকছে। এবার সাধারণ পোশাকেই ভ্যালু অ্যাডের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে উত্সবের রং। লাল থেকে শুরু করে নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, কমলা, মেজেন্ডা থাকছে সব কটা রঙেই। একরঙা পোশাকের ফ্যাশন বদলে একই পোশাকে কয়েক রঙের ব্যবহার এখন বেশি জনপ্রিয়। তাই কখনো একরঙা কামিজের বডিতে একই রঙের কয়েকটি শেডের কাজ করা হয়েছে। আবার কখনো দেওয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত রঙের কাজ।

কামিজের কাজের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে করা হয়েছে সালোয়ার এবং ওড়নার ডিজাইন। যারা গাঢ় রঙে স্বাচ্ছন্দ্য নন, ফ্যাশন ডিজাইনাররা ভেবেছেন তাদের কথাও। কাপড় হিসেবে সব সময়ের মতো এবারও  রয়েছে সুতির জয়জয়কার। তবে রেগুলার ডিজাইনের পোশাকেই সবার আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। গরমের কারণে আরামদায়ক কুর্তা ও ফতুয়ায়ও ঝুঁকছে তরুণীরা। জিন্সের সঙ্গে মানানসই এই পোশাকগুলো হতে পারে উত্সবের দিনগুলোর বিকেলের জন্য আদর্শ। উত্সবে কিছুটা গরমের ভাব রয়েছে। এর মাঝে কোনোরকম সঙ্কেত ছাড়াই হানা দিতে পারে হঠাত্ বৃষ্টি।

পোশাক ডিজাইনে তাই উত্সবকে সামনে রেখে ভাবা হয়েছে ঋতু  পরিবর্তনের কথাও। এ জন্যই সালোয়ার-কামিজ তৈরি করা হয়েছে তাঁত, সিল্ক, হাফ সিল্ক, অরগ্যান্ডি, মসলিন ও শিপন কাপড়ে। উত্সবের আরামদায়ক পোশাক হিসেবে সুতি কাপড়ও এখন অনেক জনপ্রিয়। এসব কামিজে থাকছে ব্লক, কারচুপি, এপ্লিক, ভরাট এপ্লিক ও এমব্রয়ডারির কাজ। সালোয়ার-কামিজে জমকালো ভাব আনতে কামিজের কাজগুলো ভারি রাখা হয়েছে। গলায় উজ্জ্বল রঙের সুতার কাজ থাকছে। কোনো কামিজের সম্পূর্ণ বডিতে আবার কোনোটির নিচের অংশে সুতার মোটা ও ভরাট ডিজাইন, পট্টি ও লেইস ব্যবহার করা হয়েছে। বাদ যাচ্ছে না পেছনের অংশও। কামিজের হাতায়ও থাকছে ভারি কাজ। সালোয়ার হচ্ছে কামিজের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে। ওড়নায় থাকছে হালকা কাজ। লম্বা কাটিংয়ের কামিজের জায়গা এবার দখল করে নিয়েছে মাঝারি কাটিংয়ের কামিজগুলো।

আজকের তরুণীরা ট্র্যাডিশনাল পোশাকের পাশাপাশি এই নতুন ধারার ফ্যাশনের সঙ্গে সহজেই নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন। সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়েই তৈরি হচ্ছে এই পোশাকগুলো। আপনার উত্সবকে জমকালো ফ্যাশনের রঙে রাঙাতে দাম থাকছে হাতের নাগালেই। দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলোয় উত্সবের বিশেষ এই সালোয়ার-কামিজগুলোর দাম শুরু হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে। তবে একটু বেশি ডিজাইন আর ভারি কাজ থাকছে যেসব এক্সক্লুসিভ সালোয়ার কামিজে তার দাম রাখা হয়েছে চার থেকে বারো হাজার টাকার মধ্যে। ফ্যাশন হাউজগুলোর বাইরে অন্যান্য শপিংমলগুলোতেও এর কাছাকাছি মূল্যেই পাবেন এবারের পূজার জন্য আকর্ষণীয় জমকালো সালোয়ার-কামিজ।

‘কারু বুটিক’র সত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জান্নাত আলমগীর বলেন, ‘শারদীয় দুর্গা পূজা উত্সবকে রাঙিয়ে দিতে ক্রেতাদের পাশে থাকার জন্য ‘কারু বুটিক’ করেছে বিশেষ আয়োজন। উত্সবকে আরো উত্সবমুখর করার প্রয়াসে পোশাকেও এনেছে উত্সবের আমেজ।’ 

পূজার পোশাকের ডিজাইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পূজায় আমরা একটু কালারফুল ড্রেস চাই; তাই আমাদের প্রতিটি পোশাকে আছে রং আর নতুনের ছোঁয়া। কারু বুটিকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সার্ভিস হলো—কাস্টমাইজ সার্ভিস। আপনারা চাইলে যে কোনো জামা যে কোনো সাইজ নিতে পারেন এবং সেইসঙ্গে ম্যাচ করে পরিবারের সবার জন্য একই ডিজাইনের করে নিতে পারেন। মাস্টার ইয়ালো এবং মেরুন কম্বিনেশনের একটি লং গাউন ড্রেস রয়েছে। ব্লক প্রিন্ট এবং নিখুঁত এমব্রয়ডারি ওয়ার্ক, যা ড্রেসটিকে অনেক আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পূজায় কারু বুটিকের এই গর্জিয়াস আউটফিট আপনার পূজার আনন্দ নিঃসন্দেহে দ্বিগুণ করে তুলবে। এই ড্রেসটি চাইলে আপনি অন্য যে কোনো রঙের নিতে পারেন এবং পরিবারের সবার জন্য একই ডিজাইনের বিভিন্ন সাইজ এবং সঙ্গে পাঞ্জাবিও নিতে পারেন।’

জান্নাত আলমগীর আরও বলেন, ‘আমরা অনেকই বিশেষ কোনো  অনুষ্ঠানের জন্য কামিজ স্টাইলের আরামদায়ক পোশাক পছন্দ করি। লাল মেরুনের উপর ব্লক এবং এমব্রয়ডারি কাজের এই পোশাকটিও  বেশ আকর্ষণীয়। মেরুন লীলেন কাপড়ের সঙ্গে মাস্টার, জলপাই মিষ্টি রঙের কম্বিনেশনের এই পোশাকটি পূজার জন্যে নান্দনিক পোশাক বলা যায়। কালারফুল বলতেই আমরা লাল, নীল, সবুজ, হলুদ বুঝি কিন্তু কালো এবং গোল্ডেনও অনেক গর্জিয়াস। কালো রঙের গাউনের  সঙ্গে রয়েছে গোল্ডেন সিল্কের কটি। পোশাকটিতে আফসান এবং লাল রঙের এমব্রয়ডারির কাজ করা হয়েছে। পূজার যে কোনো অনুষ্ঠানে এই পোশাকটি যে কাউকে অনেক আকর্ষণীয় করে তুলবে।’

 

মডেল হূদি

পোশাক কারু বুটিক

ছবি ফারুক আবু