মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
জমি মাত্র তিন বিঘা। সেই জমিতে সারি সারি গাছ। তিন থেকে চার ফুট উচ্চতার গাছে দেড় থেকে চার কেজি ওজনের পেঁপে। অধিক ফলনশীল ও আকর্ষণীয় রঙের দেশিও জাতের পেঁপে। যা চাষ করে চমক দেখিয়েছেন ঘিওর উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন (জোতি)।
সরেজমিন দেখা যায়, কৃষক জসিম উদ্দিন তার ছোট ভাই মতিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে পেঁপে বাগানে কাজ করছেন। দুই বিঘা জমিতে গাছে গাছে পেঁপে। চারা লাগানোর তিন থেকে চার মাসের মাথায় গাছে ফল আসা শুরু করে। দেশীয় জাতের পেঁপে গাছ উচ্চতায় সর্বোচ্চ ৫-৬ ফুট হয়ে থাকে। ওজনে পেঁপেগুলো দুই থেকে চার কেজি হয়। সপ্তাহে একবার মাঠ থেকে এক থেকে ২ হাজার কেজি পেঁপে তুলে তিনি বিক্রি করেন স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে। মাঠ থেকে বিক্রি করেন প্রতি কেজি পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে লক্ষাধিক টাকার মতো। অবশিষ্ট যে পরিমাণ পেঁপে এখন গাছে রয়েছে এবং নতুন করে যে ফল আসছে তা প্রায় ৪ লাখ টাকার অধিক মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন কৃষক জোতি ও মতি।
জোতি জানান, এ সময়ে বাজারে সবজির অনেকটাই সংকট থাকে। তাই স্থানীয় বাজারে পেঁপের চাহিদাও ভালো। এমন উত্পাদন অব্যাহত থাকলে প্রায় ৪ লাখ টাকার ওপরে পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি। তিনি আরো জানান, মূলা, লালশাক, ডাটা শাকের পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে পেঁপে চাষ করেছি। অন্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় আমি পেঁপে চাষের দিকে ঝুঁকেছি। প্রথমবার চারা লাগানোসহ বিভিন্ন পরিচর্যায় দুই বিঘা জমিতে রাসায়নিক সার, জৈব সার, খৈল ও শ্রমিক মিলে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো।
জসিম উদ্দিন জোতি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কোনো প্রকার সহায়তা পাইনি। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কোনো খোঁজখবর নেয় না। বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান বলেন, জোতি একজন সফল কৃষক। কৃষিকাজে তার সফলতা দেখে এলাকার আরো অনেকে কৃষি কাজে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, স্থানীয় পেঁপেচাষিদের কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একবার জমিতে চারা লাগালে তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রথম বছরের পর পর দুই বছর খেত পরিচর্যার খরচ খুবই কম লাগে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও কৃষকরা পেঁপে চাষে লাভবান হবেন বলে আশা করছি। কৃষকরা কোনো সমস্যা নিয়ে না আসলে আমরা কীভাবে অবগত হব। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে।