ফ্রান্সের ক্ষোভ দূর করতে ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর সঙ্গে কথা বলতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অস্ট্রেলিয়ায় পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন বিক্রি করা নিয়ে ফ্রান্স ক্ষুব্ধ। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন বিক্রির কথা ছিল ফ্রান্সের। কিন্তু আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য তাদের এই সাবমেরিন বিক্রি করছে। বলা হচ্ছে, চীনকে ঠেকাতে এই সিদ্ধান্ত। খবর ডয়চেভেলে ও রয়টার্সের
ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ফলে বেজায় চটেছে ফ্রান্স। ম্যাক্রঁ মনে করছেন, ফ্রান্সের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এই অবস্থায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর সঙ্গে কথা বলতে চান বাইডেন। ফরাসি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আগামী দিনে এ কথা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টই কথা বলতে চেয়েছেন। মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমাদের মনে হয়েছে, এটা বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা। তাই আমরা এর ব্যাখ্যা চাই।’
ফরাসি প্রেসিডেন্ট আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়েছেন। যুক্তরাজ্য থেকে ডাকেনি ফ্রান্স। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্স-২ টিভি চ্যানেলে বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার কোনো দরকার নেই। কারণ যুক্তরাজ্য বরাবরই সুবিধাবাদী নীতি নিয়ে চলে। আর যুক্তরাজ্য এখানে তৃতীয় পক্ষ। তবে মালি ও বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথ সেনা মহড়া করবে ফ্রান্স। যদিও ব্রিটেনের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত হয়ে গেছে।
সুইজারল্যান্ডও সামরিক চুক্তি বাতিল করল
অস্ট্রেলিয়ার পর এবার ফ্রান্সের কাছ থেকে সামরিক বিমান ক্রয়ের পরিকল্পনা বাতিল করেছে সুইজারল্যান্ড। রবিবার সুইজারল্যান্ডের দুটি দৈনিক জানায়, ফ্রান্সের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিনের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ। আগামী নভেম্বরে সুইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল ম্যাক্রঁর। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন নিরাপত্তা চুক্তির নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং জানায়, অকাস (এইউকেইউএস) নামে পরিচিত এই চুক্তির কারণে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যকে হতাশ করে দিতে পারে।