নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে লুটে নেওয়া হয়েছে গ্রাহকের হাজার হাজার কোটি টাকা। একইভাবে মাল্টি লেভেল মার্কেটিংয়ের (এমএলএম) নামে ডেসটিনি, যুবক, ইউনি-পে টু হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। আর সর্বশেষ প্রতারণার খাতায় নাম লিখিয়েছে ই-কমার্স ব্যবসার নামে ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ নানা প্রতিষ্ঠান। লোভনীয় অফার দিয়ে তারা গ্রাহকের কাছ থেকে তুলে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা। গ্রাহকদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ নিয়ে লুটপাটের বিষয়টি উঠে এলো লাইসেন্সবিহীন সুদের কারবার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত রিট মামলার শুনানিতে। গ্রাহকের অর্থ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, সরকার তো পদক্ষেপ নিচ্ছে কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি (গ্রাহক) নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা (প্রতিকার) কোথায়। আমার (গ্রাহক) টাকা নিয়ে গেল আর আমি এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ মন্তব্য করে।
আদালত বলে, যারা গ্রাহকের অর্থ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে সে জেলে যাবে যাক। কিন্তু আমার টাকাটা যে নিয়ে গেল সেটা কোথায়। মামলা করার পর চোর ধরা পড়ছে, কিন্তু চুরি তো ঠেকানো যাচ্ছে না। জনগণের অর্থ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর এমন দাবির পরই হাইকোর্ট এ মন্তব্য করে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সুদের কারবারিদের তালিকা করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
রিটের শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, আমার বাড়ি কেন অরক্ষিত। আমার বাড়ি মানে বাংলাদেশ। দেশের মানুষ দরজা জানালা বন্ধ করে শান্তিতে ঘুমাবে কিন্তু আমার ঘর কেন অরক্ষিত। মানুষের টাকা কেন লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এইগুলো বন্ধ করা কাদের দায়িত্ব। এটা আমরা দেখতে চাই।
এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক বলেন, সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা কিন্তু নয়। এহসান গ্রুপের কর্ণধারদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইওদের গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আদালত বলে, সরকার তো নিচ্ছে কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। সরকারের কাজ কী? এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার তাদের আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করা।
রিটের শুনানিতে রিটকারী আইনজীবী সুমন বলেন, গ্রামেগঞ্জে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুদের কারবার করছে। এসব ক্ষেত্রে তারা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদ নিচ্ছে। যেমন এহসান গ্রুপ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান না হয়েও গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছে, ঋণ দিচ্ছে। এদেরকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এ সময় আইনজীবী কয়েকটি পত্রিকার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন। আদালত বলেন, দু-একটি পত্রিকার প্রতিবেদন দিয়ে হবে না। আইনসহ নানা কিছু পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এই রিট আবেদনের বিষয়বস্তুর সঙ্গে কী কী আইন সম্পৃক্ত রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখে।