>> কে এম মাসুম বিল্লাহ
পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার অন্তর্গত জলিশা গ্রামের ছেলে তারেক মল্লিক। এলাকায় তার পরিচিতি বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে। স্কুল-কলেজের সীমানা পেরিয়ে যুবকরা যখন চাকরির জন্য ঘুরতে থাকে, ঠিক সেই সময়ে আত্মপ্রত্যয়ী তারেক তখন স্বপ্ন দেখে উদ্যোক্তা হওয়ার! তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা শুরু হয় ২০১৬ সালে, বনসাই নিয়ে কাজ করার আগ্রহ চেপে ধরে তারেকের মাথায়! আর এজন্য বনসাই এক্সপার্টের সন্ধানে চষে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত। রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন কেবল বনসাই এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। তারেকের এমন পাগলামিতে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিল তার পরিবার। তথাকথিত চাকরি পিছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলায় অবশ্য সবার জীবনেই কিছু না কিছু বাধা আসে পরিবার থেকে। তবে নিজের ওপর প্রবল বিশ্বাসের কারণে থেমে যাননি তিনি। একটু একটু করে স্বপ্নের পথে হাঁটতে থাকেন তারেক। তবে আশপাশের মানুষজনের কাছেও এজন্য হাসির পাত্র হতে হয়েছে তারেককে। অবশ্য তাতে খুব বেশি দমানো যায়নি এই তরুণকে।
বনসাইয়ের কাজ শেখার পর চায়না বট, পাকুড় বট, চায়না কামিনী, বাংলা বট, আম বট, তেঁতুল, জবা, জুনিপার, রঙ্গন, নারিকেল, ঝাউ, চায়না রংগনের বনসাই নিয়ে কাজ শুরু করেন। একটু একটু করে গড়ে ওঠে তারেক মল্লিকের স্বপ্নের নার্সারি ‘বনসাই জোন বিডি’। ২-৩ বছর পরিশ্রমের পর সবার নজরে আসতে থাকেন তারেক। বর্তমানে তার নার্সারিতে পাওয়া যাচ্ছে মিষ্টি তেঁতুল, পাতা বাহার, সিজিয়াম, এডেনিয়াম, এলমন্ডা, চায়না, পাম ট্রি, বাবুই তুলশী, বাক্স উড, চায়না বাশ, দেশি কামিনী, সীড লেস দেশি বিলাতি গাব, অর্জুন, কারি পাতা, বাগান বিলাস (এক গাছে তিন কালার ফুল), গোলাপ, চার কালার বকুল, জাম, পেয়ারা, জির বটসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছ। এছাড়াও আছে বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস ও অর্কিড।
বর্তমানে তারেকের এলাকাতে নার্সারিটি প্রায় সবার কাছেই পরিচিত। সৌখিন মানুষেরা তারেকের কাছে পাচ্ছেন নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফল, ফুল কিংবা সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে আশপাশের এলাকায়ও কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তা পৌঁছে দিচ্ছেন। এছাড়াও বাড়ি, অফিস কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানকে সৌন্দর্যবর্ধন গাছপালা দিয়ে সাজানোরও ব্যবস্থা করেন। অর্থাত্ যে কেউ চাইলেই সহজে তার বাসা-বাড়ি বা অফিসকে সাজিয়ে নিতে পারেন তারেকের ‘বনসাই জোন বিডি’র সহযোগিতায়।
তারেক তার ‘বনসাই জোন বিডি’র মাধ্যমে ২০১৯ সালে কৃষি মেলায় অংশগ্রহণ করে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পুরস্কার লাভ করেন। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার অদম্য আগ্রহ তারেককে আজ একজন উদীয়মান উদ্যোক্ত হওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে। তারেক স্বপ্ন দেখেন তার নার্সারিটির পরিসর আরো বড় হবে; দেশি-বিদেশি আধুনিক সব ধরনের ফল আর ফুল গাছের সমারোহে ভরে থাকবে তার বনসাই জোন বিডি!
উদ্যোক্তা তারেক আজ তার এলাকার বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণা।