চক্রের সাত সদস্য গ্রেফতার
ঝুঁকিতে সিসিটিভি
ক্যামেরাবিহীন অফিস বা
মার্কেট, এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক
ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ আইন
শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর
বাহিনীর
বিশেষ প্রতিনিধি
করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে ফাঁকা রাজধানীর বহুতল ভবনে চুরির উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসে তারা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও চলতে থাকে তাদের চুরি। পরিকল্পনা মোতাবেক প্রথমে নারী সদস্যকে দিয়ে টার্গেট করা অফিস, বহুতল ভবন কিংবা টাওয়ার রেকি করানো হতো। এরপর সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে সটকে পড়ত এই চক্রটি। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা প্যারাডাইস টাওয়ারে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উত্তরা জোনাল টিম। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে—জামাল উদ্দিন, শফিক ভূঁইয়া ওরফে বাছা, জসিম উদ্দীন, কাদের ওরফে কিবরিয়া ওরফে বাবু, মো. শাকিল, আলামিন ও শফিকের স্ত্রী চক্রের রেকির কাজে নিয়োজিত মুক্তা আক্তার। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. মাহবুব আলম।
তিনি বলেন, গত ১১ জুন ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার প্যারাডাইস টাওয়ারের অষ্টম তলায় গোল্ডেন টাচ ইমপোর্ট আইএনসি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়। ঐ মামলার ছায়া তদন্তকালে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে গোয়েন্দা উত্তরা জোনাল টিম। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জামালের বিরুদ্ধে ১৪টি চুরির মামলা রয়েছে। তারা সবাই চট্টগ্রাম বন্দর থানা এলাকা কেন্দ্রিক চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে গত কয়েক বছরে ঢাকায় এসে চুরিতে জড়ায় তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সুউচ্চ টাওয়ারে অবস্থিত বিভিন্ন নামিদামি অফিসে প্রথমে চুরির টার্গেট করে। এ চক্রের সদস্যরা প্রথমে খোলা থাকা অবস্থায় অফিস ও ভবন দুই-তিন দিন ধরে রেকি করে চুরির কৌশল রপ্ত করে। এরপর সুযোগ বুঝে অফিসের তালা, সিকিউরিটি লক, ডিজিটাল লক ও অফিস কক্ষের ড্রয়ার ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও টাকা পয়সা চুরি করে সুকৌশলে বের হয়ে যায়। শুধু ঢাকাতেই তাদের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন সাতটি চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হচ্ছে—আদাবর টাওয়ারের চতুর্থ তলার এক্সপার্ট গ্রুপ, কাকরাইল নাসির উদ্দিন টাওয়ারের দশম তলায় আমিন গ্রুপে, গুলশান জব্বার টাওয়ারের ১৯তলায় এসিউর গ্রুপ, বাড্ডা রূপায়ন টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত সফট লিংক কোম্পানি ও সপ্তম তলায় অবস্থিত এক্সজিবল কোম্পানির অফিসে চুরির ঘটনা। এসব ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় প্রমাণ মিলেছে।
চক্রের কৌশল ও কার্যক্রম সম্পর্কে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, যেসব অফিস বা মার্কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই কিংবা থাকলেও মনিটরিং নেই সেসবই তারা টার্গেট করে। এজন্য উচিত মালিক বা ব্যবসায়ীদের সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং নিশ্চিত করা।