স্পোর্টস রিপোর্টার
নিরাপত্তার হুমকির জের ধরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সফর বাতিল করেছিল নিউজিল্যান্ড। ১৮ বছর পর পাকিস্তানে গিয়েও কোনো ম্যাচ না খেলেই ফিরেছিল কিউইরা। তখনই আগামী মাসে ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফর নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেয়নি ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।
কিছুটা সময় নিলেও শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে ইসিবি। অক্টোবরে ইংল্যান্ডের পুরুষ ও মহিলা দলের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে উভয় দলের দুটি করে টি-২০ খেলার কথা। ম্যাচগুলো ছিল ১৩ ও ১৪ অক্টোবর। এ সিদ্ধান্তের ফলে তাদের আর পাকিস্তানে যাওয়া হচ্ছে না এখন। দুই টি-২০ এর পর ছেলেরা ফিরে গেলেও ইংল্যান্ডের মহিলা দলটা পাকিস্তানেই থাকত। কারণ স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে তাদের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার সূচি চূড়ান্ত ছিল। এক বিবৃতিতে দুটি দলের সফরই বাতিল করে ইসিবি।
এই সফর দিয়ে ১৬ বছর পর পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল ইংলিশদের। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দীর্ঘ সময় পাকিস্তানে যায়নি ইংলিশ কোনো দল। গত বছর করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার পর ইংল্যান্ডে ক্রিকেট ফেরানোর প্রক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানকে পাশে পেয়েছিল ইসিবি। বাবর আজমদের ইংল্যান্ড সফরের পরই দুই বোর্ডের আলোচনা শুরু হয়। ইংল্যান্ড দলকে সংক্ষিপ্ত সফরে পাঠাতে সম্মত হয়েছিল ইসিবি।
ক্রিকেটারদের মানসিক, শারীরিক দিক ভেবে এবং চলমান নিরাপত্তা শঙ্কার কথা ভেবেই সফর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসিবি। এক বিবৃতিতে ইসিবি জানিয়েছে, ‘২০২২ সালের ভবিষ্যত্ সফর সূচির অংশ হিসেবে পাকিস্তানে খেলার ব্যাপারে ইসিবির দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আগামী অক্টোবরে পাকিস্তানে দুটি অতিরিক্ত টি-২০, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে খেলতে সম্মত হয়েছিলাম। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের একটি সফরও করতে রাজি ছিলাম। ইসিবির বোর্ড চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে ইংল্যান্ডের পুরুষ ও নারী দলের অতিরিক্ত এই ম্যাচগুলো নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বোর্ড দুই দলের অক্টোবরের সফর প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
নিউজিল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডও সফর বাতিল হলো। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে ইসিবি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বুঝতে পারছি, এই সিদ্ধান্ত পিসিবির জন্য বড় ধরনের হতাশা, যারা তাদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। গত দুই গ্রীষ্মে ইসিবির প্রতি তাদের সমর্থন বন্ধুত্বের অনেক বড় একটি নিদর্শন। পাকিস্তানের ক্রিকেটে এর (সফর বাতিল) প্রভাবের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ২০২২ সালে আমাদের মূল সফর পরিকল্পনা সচল থাকবে।’
পরপর দুটি সিরিজ বাতিল হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পিসিবি সভাপতি রমিজ রাজা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, দ্রুতই সংকট কাটিয়ে উঠবে পিসিবি। ক্রিকেট মাঠে পারফরম করে এমন ঘটনার জবাব দিতে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রমিজ রাজা।