সিলেট বিভাগের যত্রতত্র এখন মাদকের ছড়াছড়ি। প্রতিদিন মাদকসহ বহনকারীরা ধরা পড়লেও থেমে নেই মাদক ব্যবসায়ীরা। এদিকে এই মরণনেশায় মেতে উঠেছে বিভাগের উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবসমাজ। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণনেশা ইয়াবা, হিরোইন, গাঁজা, মদসহ নানা মাদক। তবে বহন ও সেবন অনেকটা সহজ হওয়ায় সিলেটে ইয়াবার ব্যবহার বেড়েছে বেশি। বলতে গেলে সিলেট এখন ইয়াবায় ভাসছে। সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তপথ উন্মুক্ত থাকায় ওপার থেকে মাদক আসছে সহজে। নগরীতে প্রতিদিন ইয়াবার চালানসহ বাহকরা ধরা পড়লেও থেমে নেই এর বেচাকিনি। এমনকি লাভজনক এ ব্যবসায় নারীরাও নেমেছে। সিলেটের জকিগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, সুনামগঞ্জের দোয়ারা, ছাতক সীমান্ত হয়ে আসা ইয়াবা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নগরীর কোনো না কোনো এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইয়াবা উদ্ধার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু বড় কারবারিরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জানা গেছে, চলতি বছরের গত আট মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২ হাজার ৬৪৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এসএমপির ছয় থানা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে এই ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় বেশ কয়েক জন মাদক কারবারিকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে নগরে যে পরিমাণে ইয়াবা আসছে এর বিপরীতে উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ বেশি নয় বলে অনেকে মনে করেন।
এদিকে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও ইয়াবা উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর নগরীর বালুচরসহ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের সামনের সড়কে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আহমেদ মোস্তফা শিকদার ওরফে পরশ আলীকে (৫১) গ্রেফতার করে র্যাব-৯। এছাড়া ৪ সেপ্টেম্বর রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার জামডহর এলাকা থেকে ৩ হাজার ১১৫ পিস ইয়াবাসহ আব্দুল আজিজ (৫৮) নামের এক মাদক কারবারি ও নগরীর উপশহর থেকে এ বছরের শুরুতেই রোকসানা আক্তার (৩৬) নামের এক নারীকে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবার বড় চালানসহ গ্রেফতার করে র্যাব। আটক ইয়াবার দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। র্যাবের মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রোকসানা ও তার ভাই মিলে জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে ইয়াবার চালান এনে শহরে বিক্রি করত। অভিযানকালে ঐ নারীর ভাই পালিয়ে যায়। সিলেট নগরীতে এর আগে ইয়াবার এত বড় চালান আর ধরা পড়েনি।