রেসিডেন্সিয়ালের শিক্ষার্থী নাইমুলের মৃত্যু

শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রশ্নে রুল

প্রথম আলোর সাময়িকী ‘কিশোর আলোর’ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় শতকোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। রুলে কেন ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানে প্রথম আলোকে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। ট্রান্সকম গ্রুপ, প্রথম আলো সম্পাদক, কিশোর আলো সম্পাদকসহ বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশের বিষয়টি ইত্তেফাককে নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী এস এম আব্দুর রউফ শুনানি করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঐ ঘটনায় কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। কারণ কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রথম আলোর সঙ্গে অনুষ্ঠানের যে চুক্তি করে তাতে কার কী দায়দায়িত্ব তা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার দায়িত্ব ছিল প্রথম আলোর আয়োজকদের। এ কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষকে ৫০ কোটি এবং আবরারের পরিবারকে ৫০ কোটি টাকা দিতে এ রিট করা হয়েছে।  রিট আবেদনে আবেদনকারী হিসেবে ছিলেন ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আবরারের বাবা।

২০১৯ সালের পহেলা নভেম্বর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে নাইমুল আবরার রাহাত নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ঐ দিন বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর আবরারকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই বছরের ৬ নভেম্বর নাইমুল আবরারের বাবা মজিবুর রহমান দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং কিশোর আলোর প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ ঐ ঘটনায় করা মামলায় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। পরে হাইকোর্ট ঐ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে।