যুক্তরাষ্ট্র ফের বিশ্ব নেতৃত্বে ফিরছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্র আবার নেতৃত্বে ফিরছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ, জলবায়ু ও মহামারি ইস্যুতে নেতৃত্ব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি চীনকে ইঙ্গিত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনও স্নায়ুযুদ্ধ চায় না। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি বিশ্বের সমস্যা সমাধানে সামরিক শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র আগে প্রয়োগ করবে না বলে জানান। খবর সিএনএন ও আলজাজিরার

বিশ্ব নেতৃত্বে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের সমৃদ্ধি এবং আমাদের স্বাধীনতা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত যা আগে কখনও ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশেষ করে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে এসেছে। এই অবস্থান তার পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মতবাদের বিপরীত। বাইডেন বলেছেন, বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগের তুলনায় এখন আরও বেশি করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সামরিক বাহিনী ইস্যুতে বাইডেন বলেন, সামরিক শক্তি আমাদের শেষ অবলম্বনের হাতিয়ার হতে হবে, প্রথম নয় এবং সারা বিশ্বে আমরা যে সমস্যা দেখি তার জবাব হিসাবে এটিকে ব্যবহার করা উচিত নয়। বাইডেন বলেন, মিশনের লক্ষ্য অবশ্যই স্পষ্ট ও অর্জনযোগ্য। মার্কিন জনগণের সম্মতিতে হতে হবে এবং যতোটা সম্ভব মিত্রদের সম্ভাব্য অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। অতীতের যুদ্ধগুলো চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আমরা বৈশ্বিক মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সাইবার নিরাপত্তা হুমকির মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় নজর দেবো। ভবিষ্যত পৃথিবী আরো সুন্দর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধ চায় না

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন স্নায়ুযুদ্ধ চায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সতর্ক করে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। ৩০ মিনিটের বেশি বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনও দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যেসব দেশ এগিয়ে আসবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধান থেকে শুরু চ্যালেঞ্জ ভাগাভাগি করতে চায়। এমনকি যদি অন্যদের সঙ্গেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্নমত থাকে তবুও কাজ করতে প্রস্তুত আমরা। বাইডেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মূল্যবোধ ও শক্তি নিয়ে জোরালোভাবেই প্রতিযোগিতা করবে। তিনি চীনের নাম উল্লেখ না করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ও বন্ধুদের পাশে দাঁড়াবে। বাইডেন জানান, দুর্বলের ওপর শক্তিশালী দেশের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জোর করে অঞ্চলের চিত্র পরিবর্তন, অর্থনৈতিক আধিপত্য এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে কাজ করবে তার দেশ।

জলবায়ু তহবিল দ্বিগুন করবে যুক্তরাষ্ট্র

জো বাইডেন বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তন সহায়তা দ্বিগুণ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, গত এপ্রিলে আমি ঘোষণা করেছিলাম যে, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জনসাধারণের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন দ্বিগুণ করবে। যেন উন্নয়নশীল দেশগুলো জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে পারে। আজ আমি গর্ব সহকারে ঘোষণা করছি যে, আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে সেই সংখ্যাটি দ্বিগুণ করতে কাজ করবো। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ১০০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেন। এছাড়া ক্ষুধার্তদের সহায়তায় ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তারও ঘোষণা দেন বাইডেন।

আফগানিস্তান যুদ্ধ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পক্ষে আবারও সাফাই গেয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, গণতন্ত্রবিরোধী ব্যবস্থার বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের দিকে মনোনিবেশ করতে মার্কিন নীতির অগ্রগতির জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিরলস কূটনীতির এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যেমনটা আগে কখনো হয়নি। আমাদের নিজেদের সাফল্য অন্যদের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রেসিডেন্ট অন্য কোনও দেশের সঙ্গে যুদ্ধ না করা অবস্থায় জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছেন।

ফিলিস্তিন-ইসরাইল ও ইরান ইস্যু

ফিলিস্তিন-ইসরাইলের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেছেন যে, একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দ্ব্যর্থহীন। বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরান পরমাণু চুক্তির পূর্ণ সম্মতি দিতে রাজি। তবে এক্ষেত্রে তেহরানকে অবশ্যই আমাদের মতো একই কাজ করতে হবে।

জাতিসংঘের বার্ষিক এই আয়োজনটি ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ করে দেয়। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, আমরা অতল গহ্বরের প্রান্তে আছি এবং ভুলপথে এগিয়ে যাচ্ছি। এর আগে পৃথিবী কখনও এতো বেশি হুমকির সম্মুখীন কিংবা বিভক্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের জীবদ্দশায় সবচেয়ে বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। এই প্রলয়ঙ্করী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সজাগ হতে হবে।