ঠিকাদার ও পাউবো কর্মকর্তাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কমকর্তাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুনীতি দমন  কমিশন (দুদক)। প্রসঙ্গত, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৭ সালের ২ জুলাই সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সুনামগঞ্জ জেলা পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা এবং ৪৬ ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানসহ ৬১ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনুমোদিত চার্জশিটে ৩৩ জনের মধ্যে মামলার এজাহার নামীয় ২৭ জন রয়েছেন। নতুন ছয়জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর মামলা থেকে ৩৪ জন এজাহারনামীয় আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, দুদকের তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে আসামিরা দেওয়ানি অপরাধের পাশাপাশি ফৌজদারী অপরাধ করেছেন। ওই কর্মকর্তা বলছেন, প্রতি বছরে বন্যা আসার সময় ও আশঙ্কা সম্বন্ধে অবহিত থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯ জন ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৪ জন কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি করে সরকারি ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা আত্মসাত করে। এই আত্মসাত এবং অবহেলার কারণেই হাওর অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা সংঘটিত হয়। ফলে কৃষকের ও জনসাধারণের আর্থিক ক্ষতি হয়।

এজাহার নামীয় আসামি ২৭ জন হলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দপ্তর) মো. আফছার উদ্দীন, সহকারী প্রকৌশলী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মো. খলিলুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঢাকা) মো. শহিদুল্লা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (নেত্রকোনা) ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ খান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আলী রেজা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঢাকা) মো. শাহ আলম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সাতক্ষীরা) মোহাম্মদ মাহমুদুল করিম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঢাকা) মো. মোছাদ্দেক ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ঝালকাঠি) সজিব পাল। ঠিকাদাররা হলেন- মো. আফজালুর রহমান, পার্থ সারথী পুরকায়স্থ, শেখ মো. মিজানুর রহমান, আবুল মহসীন মাহবুব, নিয়াজ আহমেদ খান, মিলন কান্তি দে, খান মো. ওয়াহিদ রনি, মো. সোয়েব আহমেদ, মো. ইউনুস, মো. আব্দুল কাইয়ুম, মো. আতিকুর রহমান, মো. গোলাম সরোয়ার, মো. নুরুল হক, মো. শাহরিন হক মালিক, মোকসুদ আহমেদ, মো. সাইদুল হক, কাজি হাসিনা আফরোজ ও শেখ আশরাফ উদ্দিন। 

এছাড়া তদন্তের পর নতুন করে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট সার্কেলের সহকারী প্রকৌশলী লিংকন সরকার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) রঞ্জন কুমার দাস, সহকারী প্রকৌশলী (সুনামগঞ্জ) অনিক সাহা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন, নীহার রঞ্জন দাস ও ঠিকাদার মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রাইভেট) লিমিটেডের পরিচালক (কন্সট্রাকশন) মো. শরিফুল ইসলাম।

চার্জশিট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ৩৪ জন হলেন- পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম সরকার, প্রাক্তন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাই, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, মো. বরকত উল্লাহ ভূঁইয়া, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ঠিকাদার খন্দকার শাহিন আহমেদ, মো. জিল্লুর রহমান, সজীব রঞ্জন দাস, এম এ হান্নান, খাইরুল হুদা চপল, কামাল হোসেন, কাজি নাছিমুদ্দিন, খন্দকার আলী হায়দার, মো. আকবর আলী, মো. রবিউল আলম, মো. আবুল হোসেন, শিববত বসু, মোজাম্মেল হক মুন, মো. বাচ্চু মিয়া, বিপ্রেশ তালুকদার বাপ্পি, মো. জামিল ইকবাল, চিন্ময় কান্তি দাস, মো. খাইরুজ্জামান, ম. মফিজুল হক, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. রেনু মিয়া, মো. শামসুর রহমান, আব্দুল মান্নান, মো. মাহতাব চৌধুরী, লুত্ফুল করিম, হাজি মো. কেফায়েতুল্লা, হুমায়ুন কবির ও ঠিকাদার মো. ইকবাল মাহমুদ।