ধোবাউড়ায় যত্রতত্র অবৈধ করাতকল

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ধোবাউড়ায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ করাতকল। এসব অবৈধ করাতকলে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে অনেক গাছ। রাতে কিংবা দিনে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে কাঠ চেরাই। আবাসিক এলাকা, সড়ক, নদীর সীমানা ঘেঁষে এবং পাহাড়ের সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে এসব করাত কল। এসব মিলের নেই কোনো সরকারি অনুমতিপত্র কিংবা লাইসেন্স। এতে আবাসিক এলাকায় রাতে মানুষ ঠিক মতো ঘুমাতে পারছে না। সীমান্ত এলাকায় অনেক সময় পাহাড়ি গাছ কেটে এসব মিলে চেড়ানো হয়। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সড়কের পাশে স মিল গড়ে তোলায় যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের, তেমনি পাড়া-মহল্লায় অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা স মিলের কারণে বিকট শব্দে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। ধাইরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আ. খালেক বলেন, রাস্তার পাশে এসব মিল থাকার কারণে প্রচণ্ড শব্দদূষণ হচ্ছে।

জেলা বন বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট ৩০টির বেশি স মিল রয়েছে। যার মধ্যে একটিরও কোনো প্রকার অনুমতিপত্র নেই। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ধোবাউড়া সদরে ছয়টি, দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে পাঁচটি, গোয়াতলা ইউনিয়নে চারটি, ঘোষগাঁও ইউনিয়নে চারটি, গামারিতলা ইউনিয়নে দুটি, পুড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নে তিনটি এবং বাঘবেড় ইউনিয়নে আটটি স মিল রয়েছে। মুন্সিরহাট মান্দালিয়া এলাকার মিল মালিক সোহেল মিয়া জানান, ম্যানেজ করে মিল চালানো হচ্ছে। মিল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আ. হেলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি ম্যানেজ করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লাইসেন্স করার জন্য তিনি আলোচনা করবেন। এ ব্যাপারে বন বিভাগ ধোবাউড়া পুটিমারী বিটের কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নেয় তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান জানান, এলাকায় অনেক অবৈধ করাতকলের খবর জানতে পেরেছি। মোবাইল কোর্ট করে এসব মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।