খেলার ধরন পরিবর্তন করতে চান অস্কার ব্রুজন
স্পোর্টস রিপোর্টার
বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে যাচ্ছি—বিষয়টা ওভাবে বলব না। তবে হ্যাঁ, খেলোয়াড়দের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমি সবকিছুতে ঐক্য আনতে পারব বলে আত্মবিশ্বাসী। আমার চিন্তা, পরিকল্পনা ছেলেদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারব। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ৫০ ভাগ সুযোগ আছে। ভিন্ন কিছুর স্বাদ তারা পেতে পারে। চিন্তার কিছু নেই। যদি পরিকল্পনা কাজে না দেয়, তাহলে আমিই প্রথম দায় নেব। কেননা, প্রধান কোচ হিসেবে এটা নেওয়া আমার দায়িত্ব। নতুন কিছু চেষ্টা করে অনেক সময় মানুষ ব্যর্থ হয়। আমি এখানে ফাইনাল খেলার জন্য এসেছি এবং এই চাওয়াটা আপনাদের কাছে লুকাচ্ছি না।’
গতকাল দুপুরে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলো অস্কার সাফের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।
ইংলিশ কোচ জেমি ডে’কে বাদ দিয়ে অস্কারের ওপর আস্থা রেখেছে বাফুফে। জেমির প্রশংসা করে অস্কার বলেন, ‘গত দুই বছর আমরা কাজ করেছি। জেমি আমাদের সংস্পর্শে ছিলেন, মনিটর করেছেন, দারুণ কাজ করেছেন। জেমি যে রেজাল্ট এনে দিয়েছেন তা বাফুফের প্রত্যাশা ছিল না। আমি নিশ্চিত তিনি সেরা চেষ্টাই করেছেন। এক জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার চেয়ারে বসে কাজ করাটা কষ্টের। কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে এনেছে। দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এসেছি।’
অস্কার তার দলের কোচিং স্টাফসহ জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন। কারণ এই দলে ডাক পাওয়া ১০ জন ফুটবলার জাতীয় দলের। আর বাকি যারা আছে তারা বসুন্ধরা কিংসের না হলেও সবার সম্পর্কে ভালো জানা আছে ব্রুজনের। দুই বছর ধরে ব্রুজন বাংলাদেশের ফুটবলারদের দেখে আসছেন। তার সবকিছু বুঝা সহজ। যা কি না, নতুন কোচের জন্য কঠিন।’
ব্রুজন বললেন,‘বাংলাদশ দল যখন খেলে, তখন গোল না হজম করার মানসিকতা নিয়ে খেলে, সেটাও আপনারা জানেন। এই মনোভাব বদলের চেষ্টা করব। আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। কোনো চাপ অনুভব করছি না। আবারও বলতে চাইছি, ক্লাবে আমরা যে কাজটা করতাম, জাতীয় দলেও একই কাজের ধারাবাহিকতা রাখতে চাই আমরা। আমার সুবিধা আছে, ক্লাবের ১০ ফুটবলার আছেন জাতীয় দলে। আমি কী চাই, সেটা বুঝতে পারে। একই ধ্যানজ্ঞান আমার কোচিং স্টাফদের ওপর। এ কারণে তাদেরকেও নিয়ে এসেছি। কারণ সময় কম নতুন করে বোঝাতে হবে না।’
ব্রুজন ২৬ জনের দল ঘোষণা করেছে। মালদ্বীপ যাবে ২৩ জন। ১-১৬ অক্টোবর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মালদ্বীপে।
২৬ ফুটবলার হলেন
গোলরক্ষক :আশরাফুল ইসলাম রানা, আনিসুর রহমান জিকো ও শহীদুল আলম সোহেল। ডিফেন্ডার :বিশ্বনাথ ঘোষ, তারিক কাজী, তপু বর্মন, রহমত মিয়া, রিয়াদুল হাসান, ইয়াসিন আরাফাত, রেজাউল করিম, মেহেদী হাসান, আতিকুজ্জামান ও টুটুল হোসেন বাদশা। মিডফিল্ডার :জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা, সাদ উদ্দিন, রাকিব হোসেন, আতিকুর রহমান ফাহাদ ও মানিক মোল্লা। ফরোয়ার্ড : বিপলুু আহমেদ, মাহবুবুর রহমান সুফিল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সুমন রেজা, মতিন মিয়া, জুয়েল রানা ও এলিটা কিংসলে।