পাবনার আটঘরিয়া থানার সড়াবাড়িয়াতে ১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন ড. জহির বিশ্বাস। পিএইচডি সূত্রে দেশের বাইরে মিশর, সিরিয়া ও জর্ডানে পড়াশোনা শেষে তিনি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি মঞ্চ, বেতার, টিভি নাটকসহ চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। সেইসঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মঞ্চ ও টিভি নাটক। তার বর্তমান ও আগামীর ভাবনা তুলে ধরেছেন খালেদ আহমেদ
বর্তমান ব্যস্ততার কথা জানতে চাই।
বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগকে ঢেলে সাজাচ্ছি। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. জহিরুল হক। বর্তমানে আমার প্রধান লক্ষ্য হলো বিভাগকে বর্ধিত করা। বিশেষ করে কত বেশী সংখ্যক শিক্ষার্থীকে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে মিডিয়া, রেডিও, টিভি, কমিউনিকেশন, কর্পোরেট, ফিল্মসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা। একইসঙ্গে তাদের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করা।
জীবনের স্মরণীয় কোনো ঘটনা বলবেন কি?
১৯৯৮ সালে ‘পূর্ণিমা’ উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি কর্তৃক ‘তরুণ লেখক প্রকল্প পুরস্কার’ প্রাপ্তি সত্যিই স্মরণীয় এক ঘটনা। এছাড়াও জাতিসংঘের হয়ে জর্ডানে টিএনও এবং হেড টিচারদের প্রশিক্ষক হিসেবে ২০০৫ সালে কাজ করেছি। আমি জীবনের শুরুতে ইংরেজিতে কাঁচা ছিলাম। কষ্ট করে ইংরেজি শিখে ব্রিটিশ কাউন্সিল কর্তৃক সার্টিফাইড ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ ট্রেইনার হয়েছি। ক্রিয়েটিভ আর্টসে পিএইচডি করেছি ইংরেজিতেই। জার্মান এবং এ্যারাবিক ল্যাংগুয়েজও শিখেছি। ইউরোপ থেকে প্রকাশিত অ্যামাজনে আমার ইংরেজি কবিতা আর বায়োগ্রাফি আছে।
আপনার শৈশব-কৈশোর ও পরিবারের কথা জানতে চাই।
বড় ভাই সাবেক এমপি পাঞ্জাব বিশ্বাস (পাবনা-৪) একজন কবি ও কথাশিল্পী। আমার পিতা আজাহার বিশ্বাস ছিলেন কিস্সা ও পালাকার, আর লোকশিল্পের পৃষ্ঠপোষক। পরিবারই আমার অনুপ্রেরণা ও শিল্পচর্চার পাঠশালা।
আপনার উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা, নাট্যাভিনায় ও কর্মশালা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
উল্লেখযোগ্য টিভি নাটক— রূপনগর (পান্না মাস্তান চরিত্র), ব্যথার দান, চিঠি, গ্রন্থিকগণ কহে। বিটিভিতে আমার লেখা ‘একজন পৃথিলার কথা’ নাটকের পরিচালক ছিলেন নায়ক বুলবুল আহমেদ। চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণিতে আসাদুজ্জামান নূর ভাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার অভিনয় করেছি। ১৯৯২ থেকে ঢাকা বেতার এবং ’৯৩ সাল থেকে বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে কাজ করছি। তারপর ’৯৫ সালে এফডিসিতে নতুন মুখের হিরো হিসেবে এক হাজার তিন শ’ তেরো জনের মধ্যে প্রথম হয়েছিলাম। যদিও ব্যক্তিগত কারণে পরবর্তীকালে আর ছবি করা হয়নি।
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিপার্টমেন্টে আমার তত্ত্বাবধানে অ্যানিমেশন মুভি ‘নারীত্ব’ ট্যাগোর ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভেলে সম্প্রতি দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে। এ বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে আমার বিভাগ অংশ নিয়েছে। বর্তমানে আমার সব প্রজেক্টই শিক্ষার্থীদের ঘিরে। আমি একসময় টেলিভিশন প্রযোজক ছিলাম, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও ডকু-ড্রামা নির্মাণ করেছি। এসব দেখা যাবে আমার ইউটিউব চ্যানেলে।
নাটকের ‘পরিবেশনা’, না অভিনেতার ‘প্রস্তুতি’—কোন বিষয়ে আপনার আগ্রহ বেশি?
আগ্রহ যে উভয় ক্ষেত্রেই। কারণ আগে তো ইনপুট, তারপর আউটপুট।
আপনি বিভিন্ন নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। একাডেমিক ডিরেকশন অথবা গ্রুপ থিয়েটার নাটক ডিকেশনের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান কি?
সত্যি বলতে কি, শিল্পের কোনো ভাগ হয় না। সবই এক এবং কাজটাই আসল।
আপনার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলুন।
নেশান ব্র্যান্ডিং। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে চাই সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে। রাষ্ট্র ও জাতির জন্য আর্কাইভাল ভেল্যু আছে—এমন কাজ করছি। সেইসঙ্গে একজন শিক্ষক হিসেবে উন্নত জাতি গঠনে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করতে চাই।