৪৩ প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় নির্বাচনকে ম্নান করেছে -------- মাহবুব তালুকদার

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৪৩ প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার ঘটনা নির্বাচনকে ম্লান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে ‘সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে আমার কথা’ শিরোনামে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনের জন্য আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) দায়িত্ব পালন করেছি। এই সময়ে কয়েক জন সাংবাদিক ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও ৯টি পৌরসভা নির্বাচনে আমার সাফল্য ও ব্যর্থতা জানতে চান। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে আকস্মিকভাবে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়। তার পরও কিছু কথা থেকে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এসব নির্বাচনে তিন জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি সর্বদা বলে এসেছি, জীবনের চেয়ে নির্বাচন বড় নয়। তবু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সহিংসতা রোধ করা গেল না। নির্বাচনে ঘটনা বা দুর্ঘটনা যা-ই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের ওপরই দায় এসে পড়ে।’

তিনি আরো বলেন, যেসব স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, এজন্য যারা দায়ী, প্রমাণসাপেক্ষে তাদের আটক করা হয়েছে। যারা অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরও আটক করা হয়েছে। অধিক তদন্ত করে আরো অনেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সহিংসতা রোধে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি এবং হবে না। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে একজন সংসদ সদস্যকে (এমপি) সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের টার্নআউট মোটামুটি ভালো ছিল, ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদে ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচন না করেই চেয়ারম্যান পদে অভিষিক্ত হওয়া এ নির্বাচনকে ম্লান করে দিয়েছে। অন্যদিকে ৯টা পৌরসভায় তিন জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচন যেহেতু অনেকের মধ্যে বাছাই, সেহেতু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হওয়াকে নির্বাচিত হওয়া বলা যায় কি?

১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে’ মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবার নীরবতা তাকে হতাশ করেছে উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরা কি গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শামিল হতে অনীহা প্রকাশ করছি?