দুর্নীতি রোধে ইসলামের বিধান

রসুল (স) বলেছেন,

‘হারাম বস্তু দ্বারা যে দেহ

পরিপুষ্ট হয়, সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (কানজুল

উম্মাল :৯২৭৩)

 

ইসলাম এমন একটি কল্যাণধর্মী জীবনব্যবস্থা, যেখানে নীতিবহির্ভূত যে কোনো কাজকে (অনিয়ম, সুদ-ঘুষ, অবৈধভাবে অন্যের অর্থ-সম্পদ আত্মসাত্, অন্যায়-অপকর্ম, জুলুম-অত্যাচার ও দুর্বৃত্তায়ন) বরদাস্ত তো করেই না বরং তা ইসলামে মারাত্মক অপরাধ এবং    সব রকম নীতিবিরুদ্ধ কাজকেই দুর্নীতি হিসেবে গণ্য  করা হয়। ইসলামে অসদুপায় অবলম্বনের কোনো          স্থান নেই।

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৮৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সম্পদ অবৈধ পদ্ধতিতে ভক্ষণ কোরো না এবং শাসকদের সামনেও এগুলোকে এমন কোনো উদ্দেশ্যে পেশ কোরো না; যার ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে তোমরা অন্যের সম্পদের কিছু অংশ খাওয়ার সুযোগ পেয়ে যাও।’

এছাড়া পবিত্র কোরআনের সুরা জিলজালের ৭-৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যে অণু পরিমাণ সত্কাজ করবে তা সে দেখবে, অন্যদিকে যে অণু পরিমাণ অসত্কর্ম করবে তাও সে দেখতে পাবে।’ দুর্নীতি বলতে যেহেতু নীতি বা আইনবিরুদ্ধ কাজকেই বোঝানো হয়, তাই এ কাজ থেকে নিবৃত্ত থাকতে ইসলামে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সুরা ইয়াসিনের ৬৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।’

হজরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘মাখজুম গোত্রের এক নারী চোরের ঘটনা কুরাইশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন করে তুলল। এ অবস্থায় তারা বলাবলি করতে লাগল এ ব্যাপারে আল্লাহর রসুল (স)-এর সঙ্গে কে আলাপ করতে পারে? তারা বলল, একমাত্র রসুল (স)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উসামা বিন জায়েদ (রা) এ ব্যাপারে আলোচনা করার সাহস করতে পারেন। উসামা নবি (স)-এর সঙ্গে কথা বলেন। নবি (স) বলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনকারিণীর সাজা মওকুফের সুপারিশ করছ? অতঃপর নবি (স) দাঁড়িয়ে খুতবায় বললেন, তোমাদের আগের জাতিগুলোকে এ কাজই ধ্বংস করেছে, যে যখন তাদের মধ্যে কোনো বিশিষ্ট লোক চুরি করত, তখন তারা বিনা সাজায় তাকে ছেড়ে দিত। অন্যদিকে কোনো অসহায় গরিব সাধারণ লোক চুরি করত, তখন তার ওপর হদ জারি করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মদ (স)-এর কন্যা ফাতেমা চুরি করত তাহলে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি :৩৪৭৫) 

দুর্নীতির মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা লাভবান হলেও সামগ্রিকভাবে সমাজ ও অর্থনীতির ওপর এর মারাত্মক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবমণ্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তুসামগ্রী ভক্ষণ কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ  কোরো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।’ হজরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি একদিন রসুল (স)-কে আরজ করলেন যে, হে আল্লাহর রসুল! কীভাবে আমানত নষ্ট হবে? তিনি বলেন, যখন অযোগ্য, অদক্ষ ব্যক্তিদের কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের প্রতীক্ষায় থেকো।’ (সহিহ বুখারি :৫৯)

আজ দুর্নীতি যেন নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ হজরত আবু বকর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (স) বলেছেন, ‘হারাম বস্তু দ্বারা যে দেহ পরিপুষ্ট হয়, সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (কানজুল উম্মাল :৯২৭৩)

অবৈধ পন্থায় বাড়তি কিছু গ্রহণ বা কোনো কাজ অবৈধভাবে ভাগিয়ে নেওয়ার জন্য কোনো উপহার        গ্রহণ করাও ঘুষ হিসেবে বিবেচিত। ইসলামে ঘুষ সম্পূর্ণরূপে হারাম। এ সম্পর্কে নবি (স) বলেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপর আল্লাহ    তাআলার লানত।’

লেখক :সহকারী অধ্যাপক, শেরপুর

সরকারি মহিলা কলেজ, শেরপুর।