খুলনায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ডেঙ্গু ও শিশু রোগীর সংখ্যা। গত এক মাসে শুধু খুলনা শিশু হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ জন। এরমধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২০৬ ছাড়িয়েছে। এদিকে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালে বেড না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীর স্বজনরা।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও শিশু হাসপাতালের তথ্য মতে, গত জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম সাড়ে সাত মাসে ডেঙ্গু শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৫০। পরের এক মাসে আরো ১৫৬ জনের ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৬ জনে। চলতি বছর খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৫৯ জন) ডেঙ্গু রোগী চিকিত্সা নিয়েছেন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
অপরদিকে খুলনা শিশু হাসপাতালে গত আগস্ট মাসে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আউটডোরে চিকিত্সা নিয়েছে ১২ হাজার ৫৯৯ শিশু। এছাড়া ভর্তি ছিল ১ হাজার ৩১২ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম ২০ দিনে আউটডোরে চিকিত্সা নিয়েছে ১২ হাজার ১৯৫ জন। ভর্তি হয়েছিল ৮৪৬ জন। মাত্র দেড় মাসে আউটডোরে মোট রোগী চিকিত্সা নিয়েছে ২৪ হাজার ৭৯৪ জন। মোট ভর্তি রোগী ২ হাজার ১৫৮ জন।
আমেনা খাতুন নামে এক শিশুর বাবা মো. রিপন বলেন, ‘সন্তানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে এসেছি। দুই দিন ধরে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করছি। কিন্তু সব হাসপাতাল থেকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে শিশু হাসপাতালে ভর্তি করতে। কিন্তু শিশু হাসপাতালে বেড খালি না থাকায় দুই দিন ধরেও ভর্তি করতে পারিনি সন্তানকে।’
সুমি নামের এক শিশুর মা বলেন, ‘একদিন ঘুরে সন্তানকে ভর্তি করতে পেরেছি। খুলনার অন্যান্য হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর (রেফার্ড) করে আমাদের শিশু হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু এখানে বেড কম থাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় সন্তানদের নিয়ে এখানে এসে পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়।’
খুলনা শিশু হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আল আমিন রাকিব বলেন, ‘আমাদের এখানে ২৭৪টি বেড রয়েছে। যা রোগীর তুলনায় অনেক কম। আমরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় রোগী ভর্তি করতে পারি না। সংকট কাটাতে শিশু হাসপাতালে আরো একটি ১০তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি হলে রোগীদের ভোগান্তি অনেকটা কমে আসবে।’
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. জসিম উদ্দিন হাওলাদার রোগীর সংখ্যা বেড়েছে স্বীকার করে বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনসহ নানা কারণে ডেঙ্গুর পাশাপাশি খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে শিশুর নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগ। তবে খুলনায় যেসব রোগী ডেঙ্গু রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছে, তার অধিকাংশই খুলনা জেলার বাইরের রোগী। অনেকে আছে, যারা ঢাকা থেকে ফিরেছেন ডেঙ্গু রোগ নিয়ে; কিন্তু এখানে এসে চিকিত্সা নিচ্ছে।