বইমেলায় বরাবরই কিশোর-তরুণদের বিজ্ঞান বিষয়ক ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বইয়ের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। তাই প্রকাশক ও লেখকরাও এ বিষয়ে বাড়তি মনযোগ দিয়ে থাকেন। এবারও বইমেলার প্রায় প্রতিটি স্টলেই রয়েছে বিজ্ঞানের ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বই।
এমন একটি প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান ‘বিজ্ঞান একাডেমি’— যারা শুধু বিজ্ঞান বিষয়ক বই প্রকাশ করে থাকে। এর বিক্রয় প্রতিনিধি মো. আনোয়ার হোসেন জানালেন, শিক্ষার্থীরাই আমাদের বইয়ের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। আমাদের কোনো বই সু্কলে পাঠ্য নয়। তারপরও আমাদের কিশোর—তরুণরা বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকেই বিজ্ঞানের চমকপ্রদ সব বিষয়ের বইয়ের দিকে ঝুঁকছে।
শুধু বিজ্ঞান একাডেমি নয় অন্যান্য প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানেও বিজ্ঞানের বইয়ের বিক্রি বেশ ভালো। বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থেকেই শিশু-কিশোর ও তরুণদের সায়েন্স ফিকশন পড়বার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রিও হচ্ছে খুব ভালো। প্রতিবছর তো মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটি সায়েন্স ফিকশন প্রকাশ পাওয়া বইমেলার প্রথায় পরিণত হয়েছে। তার পাঠকরাও অপেক্ষায় থাকেন কখন আসবে তার বই। এছাড়াও, তরুণ আরও বেশ কয়েকজন লেখক নিয়মিত সায়েন্স ফিকশন বই লিখছেন। এর পাশাপাশি আইজ্যাক আজিমভ, আর্থার সি ক্লার্ক এর অনুবাদ বইও সমানভাবে জনপ্রিয় পাঠকদের কাছে।
মেলায় এসেছে নবরাগ প্রকাশনীর ড. নিশীথ কুমার পালের লেখা ‘জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা’, মীরা প্রকাশন এনেছে প্রদীপ দেবের ‘শুক্র: যে গ্রহে সূর্য উঠে পশ্চিম দিকে’, তৃণলতা প্রকাশ এনেছে শামসুল আলম জুয়েলের ‘ভীনগ্রহের প্রাণী’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে ভবেশ রায়ের ‘নলেজপিডিয়া-২’, ঝিনুক প্রকাশনী এনেছে ‘ধান, ধ্যান ও বিজ্ঞান’ প্রভৃতি। এছাড়া, বিজ্ঞান একাডেমি এনেছে— ছোটদের মেধা বিকাশে জ্ঞান-বিজ্ঞান, বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞানের কিছু আবিষ্কার, বিজ্ঞানের বিস্ময়কর গল্প, মমি, পিরামিড রহস্য, প্রজাপতি ও মথ প্রভৃতি।
এ পর্যন্ত মেলায় আসা সায়েন্স ফিকশন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে
তাম্রলিপি এনেছে, মুহম্মদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন ‘নিয়ান’, কথাপ্রকাশ এনেছে মুহম্মদ মনিরুল হুদার ‘নীল চশমা’, সাজ্জাদ কবীরের ‘গুডবাই টু আর্থ’, অনিন্দ্য প্রকাশনী থেকে এসেছে মোশতাক আহমেদের ‘জকি’ ও ‘গিগো’, দীপু মাহমুদের ‘ইমি’, শিল্প প্রকাশনী থেকে মো. তানভীর আহম্মেদ রবিনের ‘রক্তিম সাইমন’, নন্দিতা প্রকাশ থেকে আশরাফ পিন্টুর ‘মহাজাগতিক বিপর্যয়’, তৃণলতা প্রকাশ এনেছে আহসান হাবীবের ‘বিজ্ঞান কল্প গল্প’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে আসিফ মেহ্দীর ‘ট্রুুপিটু পৃথিবীর মহাবিপদ’, অন্যধারা এনেছে আবু নেসার শাহীনের ‘রোবট এরিয়েনের যুদ্ধ’, ভাষাপ্রকাশ এনেছে মুহম্মদ মনিরুল হুদার ‘কালো বিড়াল’, রিয়া এনেছে রণজিত্ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিজ্ঞানের সহজ কথা’, সালমা বুক ডিপো এনেছে শেখ আবদুল হাকিমের ‘সায়েন্স ফিকশন ও ফ্যান্টাসি’ প্রভৃতি।
বাউল গানে জমজমাট বইমেলার মঞ্চ
বাউল গানে জমে উঠেছিল গতকাল মেলামঞ্চ। শিল্পী আলম দেওয়ান, রণজিত দাস বাউল, মমতা দাসী বাউল, লতিফ শাহ এবং মো. আনোয়ার হোসেনের বাউল গান শুনতে মেলা মাঠে ছিল উপচেপড়া ভিড়।
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় কথাশিল্পী অমিয়ভূষণ মজুমদার : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহীবুল আজিজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন হোসেনউদ্দীন হোসেন, মাহবুব সাদিক এবং হরিশংকর জলদাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন। সন্ধ্যায় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সেলিনা হোসেন বলেন, জন্মশতবর্ষে অমিয়ভূষণ মজুমদারকে স্মরণ অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। প্রান্তবর্তী মানুষের অন্তর্গত বেদনা, সংগ্রাম ও সংকল্পের দায় তিনি তার কলমের সঙ্গে অঙ্গীকৃত করে নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে নারীরা
এছাড়াও অনুষ্ঠানে কবিতাপাঠ করেন মুহম্মদ নূরুল হুদা এবং সঞ্জীব পুরোহিত। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর মাসরুর জামান রনি এবং লাবণ্য শিল্পী।
গতকাল লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কবি অসীম সাহা, রেজাউদ্দীন স্টালিন, মীম নোশিন নাওয়াল খান, মাজহার সরকার এবং পারভেজ হোসেন।
নতুন বই
গতকাল বইমেলায় নতুন এসেছে ৯০টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ইমদাদুল হক মিলনের ‘আমার প্রেমের উপন্যাস (কথাপ্রকাশ), আনিসুল হকের নিষিদ্ধ কৌতুক (পার্ল), নেহাল করিমের ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় (হাওলাদার প্রকাশনী) প্রভৃতি।
ইত্তেফাক/আরকেজি