পুনর্নির্মাণের দাবি
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কে অবস্থিত ফেনী-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম শুভপুর ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ফেনী নদীর ওপর অবস্থিত ব্রিজটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় ব্রিজের মুখে লোহার পিলার দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ার পরও ঝুঁকি নিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ এই ব্রিজ দিয়ে ভারী যানবাহন বন্ধ থাকায় মিরসরাই-ছাগলনাইয়া উপজেলা ও খাগড়াছড়ি জেলার হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন অর্ধশত কিলোমিটার পথ ঘুরে বিকল্প পথে অর্থ ও সময় নষ্ট করে বেশির ভাগ যানবাহনকে গন্তব্যে যেতে হয়।
জানা গেছে, শুভপুর ব্রিজটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তিন জেলায় বসবাসকারী জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ। ১৯৫২ সালে ৩৭৪ মিটার দীর্ঘ ফেনী নদীর ওপর শুভপুর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কয়েক দফায় ব্রিজটি মেরামত করলেও পুনর্নির্মাণ করা হয়নি। ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এদিকে জানা গেছে, ফেনী নদীতে ব্রিজের পিলারের নিকটবর্তী স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ফলে কয়েকটি পিলারের গোড়া থেকে মাটি সরে গেছে। মিরসরাইয়ের করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, শুভপুর ব্রিজের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলছে। ব্রিজটি পুনরায় নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ব্রিজটি পুনর্নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে একটি বড় স্বপ্ন পূরণ হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ফেনী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ডক্টর মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, শুভপুর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য ডিজাইন তৈরি ও সয়েল টেস্ট করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি চার লেইন বিশিষ্ট হবে। ব্রিজটি নির্মিত হলে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি রামগড়ে নির্মিতব্য স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।