৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মা ও শিশুকেন্দ্র চালু হয়নি

নেই ডাক্তার-নার্স

আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা

প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সবই আছে। আছে আধুনিক ডিজাইনের বিল্ডিংও। কিন্তু ডাক্তার-নার্স না থাকায় প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জয়লাজুয়ান গ্রামে ১০ শয্যার সুঘাট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি মানুষের কল্যাণে আসছে না। কেন্দ্রটি নির্মাণের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ডাক্তার-নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

শেরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ২০১৯ সালে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়নি। কথা হয় জয়লাজুয়ান গ্রামের কাঠব্যবসায়ী লোকমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সরকার বহু টাকা খরচ করে নিভৃত পল্লিতে একটি সুন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করলেও ডাক্তার-নার্স না থাকায় এটি এলাকার মানুষের কোনো কাজে আসছে না। তিনি জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হলে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ চিকিত্সা সেবা পাবে। সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ আক্ষেপ করে বলেন, অনেক চেষ্টায় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অনুমোদন নিয়েছিলাম। আধুনিক ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকার এখানে ডাক্তার-নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় এই এলাকার মানুষ হতাশ হয়েছে।   

শেরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সেলিমা আখতার জানান, মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি চালু হলে গর্ভবতী নারীদের চেকআপ, নিরাপদ প্রসব ও শিশুদের বিনা মূল্যে সেবা দেওয়া হবে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি নির্মাণ করে এবং ২০১৯ সালে বগুড়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে হস্তান্তর করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এখনো সেটি চালু করা যায়নি। শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান লিঙ্কন জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম রয়েছে। ডাক্তারদের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডাক্তার-নার্স নিয়োগ দিলেই পুরোপুরিভাবে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কেন্দ্রটি চালু হবে।