বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনার এক বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল শনিবার। স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দুটি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে।
আইনজীবীরা জানান, উচ্চ আদালতের আদেশে দলবদ্ধ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলার বিচার কার্যক্রম একই আদালতে একসঙ্গে চলবে। এ জন্য নতুন করে মামলার অভিযোগও গঠন করা হবে। তবে আগামী ধার্য তারিখে কোন আদালতে নতুন করে অভিযোগ গঠন করা হবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্যানেলের প্রধান অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান চৌধুরী জানান, কয়েক মাস আগে মামলা দুটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দলবদ্ধ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলার বিচার হবে একই সঙ্গে একই আদালতে। এজন্য নতুন করে অভিযোগ গঠন করতে হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট রাশিদা সাঈদা খানম উচ্চ আদালতের আদেশের ফলে নতুন করে অভিযোগ গঠন করার কথা নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য রাজন ঘটনার দুই মাস আট দিন পর ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেন।
গ্রেফতার আট আসামির সবাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৯ বছর বয়সি ঐ নববধূকে ধর্ষণ করে। রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণে সহযোগিতা করে। আট আসামির সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। বর্তমানে তারা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের এক যুবক নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে প্রাইভেট কারযোগে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার দিকে কয়েক জন স্বামী ও স্ত্রীকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে প্রাইভেট কারসহ তাদের জোরপূর্বক জিম্মি করে কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এরপর তারা স্বামীকে আটকে রেখে ঐ গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে।