মো. ফাহাদ হোসেন
n সময় ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া
ভর্তিযুদ্ধের সফলতার অনেকখানি নির্ভর করে কম সময়ে সঠিক উত্তর প্রদান করার যোগ্যতার ওপর। কম সময়ের মধ্যে কীভাবে সঠিক উত্তর করা যায়, তা রপ্ত করার জন্য প্রয়োজন প্রচুর অনুশীলন। সেজন্য বিভিন্ন টপিকের শর্টকাট টেকনিকসহ আরো বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে। প্রয়োজনে বাড়িতে বসে সময় দেখে দেখে পরীক্ষা দিতে হবে।
n বেশি বেশি করে মডেল টেস্ট দেওয়া
ছোটবেলা থেকে আমরা সবাই জানি, "Practice makes a man perfect"। ভর্তিযুদ্ধে এ প্রবাদবাক্যের সততা পাওয়া যায় হাড়ে হাড়ে। যে শিক্ষার্থী যতবেশি অনুশীলন ও মডেল টেস্টে অংশ নিবে তার ভর্তিযুদ্ধে সফলতার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে, এক বা দেড় ঘণ্টার পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে যাবে একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ঠিকানা। অনেক শিক্ষার্থীর ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা কেন্দ্রের নিজের সেরাটা দিতে পারে না। যার অন্যতম প্রধান কারণ, পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার ধরন ও আবহাওয়ায় নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারা। সুতরাং, নিজেকে ভর্তিযুদ্ধে এগিয়ে রাখতে বেশি করে মডেল টেস্ট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক সমাধান করার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় কি কি প্রশ্ন আসে সে সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।
n পড়তে হবে মনোযোগী হয়ে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ে মুখ গুঁজে পড়লেই বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া যায় না। সেজন্য পড়ার সময় মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। পড়াশোনা করার জন্য উপযোগী স্থান ও সময় নির্বাচন করে হবে। ভোরবেলার শান্ত পরিবেশ পড়াশোনা করার জন্য আদর্শ সময়। সুতরাং এ সময়কে কাজে লাগাতে হবে পড়াশোনার জন্য। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা নোট খাতা ব্যবহার করা উচিত। তুমি কতগুলো টপিক শেষ করেছ সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং ভর্তি পরীক্ষায় সফল হতে তোমার পড়ার মান কেমন ছিল সেটা শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অগোছালোভাবে সব পড়ার চেয়ে ঠিকঠাকভাবে সামান্য পড়াটাও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, বেশি পড়ার চেয়ে ভালোভাবে পড়ছো কি না, সেটার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে সব সময়।
n নিজেকে আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলা
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কোনো অংশেই যুদ্ধ থেকে কম নয়। যুদ্ধজয়ের অন্যতম মূলমন্ত্র সব সময় আত্মবিশ্বাসী থাকা। ভর্তিযুদ্ধে লাখো শিক্ষার্থী অংশ নেবে বলে, হতাশ হয়ে বসে থাকা যাবে না। নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নকে জয় করার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। মোটেই হতাশ হওয়া যাবে না কোনো মুহূর্তে। নিজের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে এগিয়ে চলতে হবে সামনের দিকে।
n নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি হতে হবে যত্নশীল
ভর্তি প্রস্তুতির সময়টা অনেক মূল্যবান। এ সময়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে অনেক চাপে থাকে। পাশাপাশি আক্রান্ত হতে পারে বিভিন্ন মৌসুমি রোগব্যাধিতে। একজন ভর্তি পরীক্ষার্থীর দৈনিক ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত পানি পান করতে হবে। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও দুর্বল শরীর নিয়ে কোনো কাজ সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। তাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি হতে হবে যত্নশীল।
n সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে
ভর্তিযুদ্ধের শেষ মুহূর্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই সীমিত এ সময়কে কোনোভাবেই অপচয় করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অতিরিক্ত ব্যবহার ও গেইমের আসক্তিকে কমিয়ে আনতে হবে এ সময়ে। অপ্রয়োজনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও ঘুরাঘুরি করার প্রবণতাকে কমিয়ে আনা উচিত।