বিদ্যুতের অভাবে পড়ে আছে পানি শোধনাগার!

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার পানি শোধনাগার বিদ্যুত্ সংযোগের অভাবে নির্মাণের পর দুই বছর ধরে পড়ে আছে। সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ পানি শোধনাগার পৌরবাসীর উপকারে আসছে না। আর ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) বলছে ৩ কোটিরও বেশি টাকা বিদ্যুত্ বিল পৌরসভার কাছে পাওনা থাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। 

মহেশপুর পৌরসভার কাগজপত্র থেকে জানা যায়,  দেশের মধ্যে এটি পুরোনো পৌরসভা। ব্রিটিশ আমলে ১৮৬৯ সালে এ পৌরসভা স্থাপিত হয়। তখন লোসংখ্যা ছিল ৩ হাজারের কিছু বেশি। এটি এখনো গ্রাম বহুল পৌরসভা। বর্তমানে পৌরসভার লোকসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। পৌর এলাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু রয়েছে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির অভাব। শহরের অধিকাংশ মানুষ নিজেদের টিউবওয়েলের পানি পান করে। পানিতে রয়েছে আর্সেনিক ও আয়রন। আর আয়রন ও আর্সেনিক মুক্ত বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের জন্য শহরের জলিলপুর এলাকায় আধুনিক একটি পানি শোধনাগার প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৭ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। দুই বছর আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। শুধু বাকি থাকে বিদ্যুত্সংযোগের কাজ। আর বিদ্যুত্সংযোগ না হওয়ায় পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। এটি চালু না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর পৌরবাসী বঞ্চিত হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানি থেকে।

শহরের জলিলপুর বাজারের মো. শাহ কামাল বলেন, এ শহরে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব রয়েছে। মানুষ নিজস্ব টিউবওয়েলের পানি পান করে। এ পানিতে মাত্রারিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। তিনি বলেন, পানি শোধনাগার নির্মাণের পর দুই বছর ধরে পড়ে আছে। পৌরবাসীর কোনো উপকারে আসছে না। মহেশপুর সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, আমরা জেনেছি সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার দুই বছর আগে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু পৌরসভার কাছে বিদ্যুতের অনেক টাকা বিল বাকি রয়েছে। এজন্য  ওজোপাডিকো পানি শোধনাগারে বিদ্যুত্সংযোগ দিচ্ছে  না। তিনি সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

 ওজোপাডিকোর মহেশপুরের আবাসিক প্রকৌশলী সেকেন্দার হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, বিদ্যুতের অভাব নেই। পৌরসভার কাছে ৩ কোটি ৭ লাখ টাকা বিদ্যুত্ বিল বকেয়া পড়ে আছে। বকেয়া বিদ্যুত্ বিল পরিশোধ না করলে পানি শোধনাগারে বিদ্যুত্সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

 মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান জানান, তার আগের পৌর পরিষদ ২ কোটিরও বেশি টাকা বিদ্যুত্ বিল বকেয়া রেখে গেছেন। প্রতি বছর এর সঙ্গে সুদ যোগ হয়ে বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ বিল পরিশোধের জন্য অনুদান চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। পৌরসভার আয় থেকে এ বিপুল অঙ্কের বিল পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে মেয়র উল্লেখ করেন।