নির্বাচনি প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা

বাগেরহাটের মোংলার এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য খুন করা হয় পারুল বেগমকে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পারুল বেগমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে খুনি। পারুলকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে নেওয়া হয় বাসাভাড়া। প্রথম দিনেই ঐ নারীকে হত্যা করে লাশের পাশে প্রতিপক্ষ সেই মেম্বার প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ফেলে পালিয়ে যায় খুনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

ঐ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির সূত্র ধরেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতারসহ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতার দুই জন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার সাভারের বক্তারপুর নামাবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে পারুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত পারুলের বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী সিন্দুর কোটা মটমোড়া এলাকায় বলে জানা গেছে।

পিবিআই প্রধান বলেন, মোংলা থানার ৬ নম্বর চিলা ইউনিয়নের নির্বাচন হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর। এই ইউপি নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ছিলেন হালিম হাওলাদার, বেলাল সরদার এবং এশারাত। এদের মধ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মেম্বার ছিলেন হালিম হাওলাদার। বেলাল নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে হালিম ভাবছিলেন তিনি পরাজিত হবেন। তাই বেলালকে নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেন হালিম। এরপর তিনি পূর্বপরিচিত পিরোজপুরের জামাল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বেলালকে ফাঁসানোর জন্য একটি খুনের পরিকল্পনা করেন তারা। ৩০ হাজার টাকায় খুনের কন্ট্রাক্ট পেয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী পারুল বেগমের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন জামাল। পরে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর সাভারের বক্তারপুরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে খুন করেন। পরে ঘটনাস্থলে বেলাল সরদারের এনআইডির ফটোকপি ফেলে পালিয়ে যায় সে। ঐ ঘটনায় সাভার থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা হয়।

বনজ কুমার মজুমদার আরো বলেন, মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বেলালকে ফাঁসানোর জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তবে নির্বাচনের কারণে পিবিআই হালিমকে তাত্ক্ষণিক গ্রেফতার করেনি। ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন শেষ হওয়ার পর গত সোমবার হালিমকে গ্রেফতার করা হয়। নির্বাচনে বেলাল বা হালিম কেউ জেতেননি। জয় পেয়েছেন তৃতীয় প্রার্থী এশারাত নামে এক ব্যক্তি।

পিবিআই প্রধান বলেন, ঐ নারীকে হত্যার পর জামাল ও হালিম বেশ কয়েক বার ফোনে কথা বলেছেন। প্রতিপক্ষ গ্রেফতার না হলে আরো খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। তাদের টার্গেট ছিল একজন হিন্দু ব্যক্তি।