চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটন!

স্পোর্টস ডেস্ক

এমন না যে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল মাদ্রিদকে কেউ হারায়নি। এমন না যে, চ্যাম্পিয়নস লিগে অঘটন হয়নি। কিন্তু এই অঘটন আগের সবগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে! ফুটবল পন্ডিতেরা তেমনটাই বলছে ও লিখছে। সদ্যই চ্যাম্পিয়নস লিগে নাম লেখানো ক্লাব শেরিফ তিরাসপোলের কাছে ২-১ গোলে হেরে গেল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল ক্লাবটি। তাও আবার ঘরের মাঠে, সেটাকে সবচেয়ে বড় অঘটন ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়।

দেশ ট্রান্সনিস্ত্রিয়া হলেও স্বীকৃতির অভাবে মলদোভান লিগে খেলে শেরিফ। ১৯৯৭ সাল থেকে সেখানেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। প্লে অফে ডায়নামো জাগ্রেভকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সুযোগ পায় চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার। নিজের প্রথম ম্যাচেই শাখতার দোনেত্স্ককে ২-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখায়। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে যা করল সেটা অনেকের জন্য অঘটন হলেও, তাদের কাছে রূপকথার। ১৩ বারের ইউরোপ সেরা ক্লাবকে হারানো তো চাট্টিখানি কথা নয়।

বের্নাব্যুতে ৭৬ ভাগ বল দখলে ১১ বার গোলমুখে শট নেয় রিয়াল। একমাত্র গোলটি আসে ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করিম বেনজেমার। তার আগে ২৫ মিনিটে হেডে সফরকারীরদের এগিয়ে দেন জাসুরবেক ইয়াখশিবোয়েব। ১-১ সমতায় ম্যাচের বয়স যখন ৮৯ মিনিট, তখনই বুলেট গতির শটে চোখ ধাঁধানো এক গোল করেন সেভাস্তিয়ান থিল। যার পায়ের ট্যাটুতে আকা ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্ন।

দুই গোলদাতাকে ছাপিয়ে জয়ের নায়কের পুরস্কার উঠে গোলকিপার জর্জিওস আথানাসিয়াদিসের হাতে। কেননা রিয়ালের নেওয়া ১১টি শটের ১০টি ঠেকিয়ে দিয়েছেন। পুরস্কার নিতে এসে প্রায় কেঁদে দেন তিনি। তবে আত্ববিশ্বাসের বুলি ঝড়ছিল অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কাস্তেনেদার কণ্ঠে, ‘বিশ্বাস ছিল যে, আমরা জিততে পারব। অধিনায়ক হিসেবে দলকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি এই বলে যে, আমরা স্বপ্ন কেন দেখতে পারব না? এটাই ফুটবল। রিয়াল ঐতিহাসিক ক্লাব কিন্তু মাঠের লড়ইটা ১১ বনাম ১১ ফুটবলারের।’ অন্যদিকে রিয়াল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘এমন পারফরম্যান্সের পর হার ব্যাখ্যা করা কঠিন। আমরা হার নিয়ে কথা বলছি, যেখানে এটা আমাদের প্রাপ্য ছিল না। ভবিষ্যতের জন্য এটি ভালো শিক্ষা হতে পারে