ভারতীয় সংগঠনের অংশগ্রহণ ছাড়াই শুরু হচ্ছে ১২ দিনের গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুরু হতে যাচ্ছে গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব। তবে, করোনা নিষেধাজ্ঞার কারণে গঙ্গা পাড়ের কোনো সাংস্কৃতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই শুরু হচ্ছে এ উত্সব।

গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে উত্সবের আহ্বায়ক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, করোনার নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারের উত্সবে থাকছে না ভারতীয় কোনো সাংস্কৃতিক দল। শুধু দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অংশ নেবে উত্সবে। সারা দেশের ১৪০টি সংগঠনের আনুমানিক সাড়ে ৩ হাজার শিল্পী-কলাকুশলীর অংশগ্রহণে এবারের ‘গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উত্সব’ উদ্যাপন হবে। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে পাঁচটি মিলনায়তনে স্বাস্থ্যবিধি ও মঞ্চ নির্দেশনা মেনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উত্সবের সদস্য মীর জাহিদ হাসান। উত্সব সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উত্সব উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব এবং নাট্যজন আকতারুজ্জামান, উত্সবের অর্থ উপপরিষদের আহ্বায়ক আহমেদ গিয়াস, উদ্যাপন পর্ষদের সদস্য খোরশেদুল আলম, মানজার চৌধুরী সুইট, আজহারুল হক আজাদসহ বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

এতে জানানো হয়, এবারের উত্সবটি উত্সর্গ করা হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১ থেকে ১২ অক্টোবর ১২ দিনব্যাপী এ উত্সব বাংলাদেশ শিল্পকলার জাতীয় নাট্যশালার মূল হল, পরীক্ষণ থিয়েটার হল, স্টুডিও থিয়েটার হল, জাতীয় সংগীত-নৃত্যকলা-আবৃত্তি মিলনায়তন এবং জাতীয় নাট্যশালার মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। উন্মুক্ত মঞ্চের সাংস্কৃতিক পর্ব প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এবং মঞ্চনাটক প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। নাটকের অগ্রিম টিকিট কাউন্টারে পাওয়া যাবে।

এবারের উত্সবে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ৩৬টি নাট্যদলের মোট ৩৬টি মঞ্চনাটকের প্রদর্শনী হবে। সংগীত, নৃত্যকলা ও আবৃত্তি মিলনায়তনে ৪৪টি সংগীত আবৃত্তি ও নৃত্যদল তাদের পরিবেশনা নিয়ে হাজির হবে। উন্মুক্ত মঞ্চে ১২টি পথনাটক, ১১টি আবৃত্তি সংগঠনের পরিবেশনা, ১২টি সংগীত সংগঠন, ১১টি নৃত্য সংগঠন, ১০টি শিশুদল এবং একক আবৃত্তি ও একক সংগীত পরিবেশনা থাকবে উত্সবে।

১ অক্টোবর বিকালে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উত্সবের উদ্বোধন করবেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক সুজেয় শ্যাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

উদ্বোধনী সন্ধ্যায় মূল হলে মঞ্চস্থ হবে থিয়েটার প্রযোজনা ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’। নাটকটি রচনা করেছেন সৈয়দ শামসুল হক ও নির্দেশনা দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। পরীক্ষণ থিয়েটার হলে থাকবে আরণ্যক নাট্যদলের প্রযোজনা ‘কহে ফেসবুক’। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা করেছেন মামুনুর রশীদ। এছাড়া স্টুডিও থিয়েটার হলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ঢাকার প্রযোজনা ‘জনকের মৃত্যু নেই’ মঞ্চায়িত হবে। এটি রচনা করেছেন আবদুল হালিম আজিজ এবং নির্দেশনা দিয়েছেন স্মরণ সাহা।