কুমিল্লায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই দরিদ্র পরিবারের মো. আশরাফুল আমিন নামে ৮ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে পরিকল্পিতভাবে খুন করেছে ৩ কিশোর। ক্লু-লেস এ ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে র্যাবের টিম বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা, নরসিংদী ও কুমিল্লায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের ৩ ঘাতককে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আশরাফুলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ও নাক-মুখ স্কচটেপ পেঁচিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।
নিহত স্কুলছাত্র আশরাফুল জেলার দাউদকান্দি উপজেলার শাহপুর গ্রামের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মো. আল-আমিনের ছেলে এবং গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- একই উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইদুল ইসলাম ও বুলিরপাড় গ্রামের মন্তোষ চন্দ্র সাহার ছেলে কিশোর চন্দ্র সাহা এবং জেলার চান্দিনা উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে রিফাত হোসেন।
কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা। এসময় র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেসব্রিফিংয়ে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা আরও জানান, স্কুলছাত্র আশরাফুল লেখাপড়ার পাশাপাশি করোনাকালে দরিদ্র পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে অটোরিকশা চালিয়ে তার বাবাকে সহায়তা করে আসছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরসংলগ্ন দৈয়ারপাড় এলাকার একটি মাছের প্রজেক্টের পাড়ে আম গাছের সঙ্গে বাঁধা ও নাকে-মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের অটোরিকশা চালক বাবা আল-আমিন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান পরিচালনা করে ঘাতক সাইদুল ইসলামকে কুমিল্লা হতে, কিশোর চন্দ্র সাহাকে নরসিংদী হতে এবং রিফাত হোসেনকে ঢাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে- অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পনা করে তারা বাজার থেকে রশি ও স্কচটেপ কিনে সাথে নিয়ে ঘটনার দিন গৌরীপুর বাজারে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমাণ স্কুলছাত্র আশরাফুলকে টার্গেট করে এবং তার অটোরিকশাটি ভাড়ায় নেয়। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দৈয়ারপাড় এলাকায় নিয়ে চাকুর ভয় দেখিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ও নাক-মুখ স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে হত্যার পর অটোরিকশাটি ছিনতাই করে। নিজেরা চালিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর অটোরিকশাটি উল্টে খাদে পড়ে যায় এবং সেখান থেকে তুলে আবারো চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ব্যাটারির চার্জ না থাকায় তারা অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যায়। এর মাস খানেক আগেও তারা একই কায়দায় আরও একটি অটোরিকশা ছিনতাই করেছে বলে জানিয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর