গোপনে তরুণীর গোসলের ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ১

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে গোপনে এক তরুণীর গোসলের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ অক্টোবর) বিকালে ওই যুবককে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত যুবক কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের হাজিরহাট গ্রামের দুলাল হোসেনের  ছেলে ফরহাদ হোসেন (২০)। তবে এ ঘটনার মুল হোতা একটি মাদ্রাসার দুই ছাত্র পালিয়ে গেছে। ওই তরুণীর বাবা বাদী হয়ে পর্নগ্রাফি আইনে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, হাজিপাড়া গ্রামের ওয়াহেদুল ইসলামের দুই ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র দেলোয়ার হোসেন (১৭) ও গোলাম মোস্তফা ওরফে গোলজার রহমান(২২) একই গ্রামের এক তরুণীর গোসল করার দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করে। এরপর তারা হাজির হাট গ্রামের কম্পিউটার দোকানদার ফরহাদ হোসেনের কাছে গিয়ে এক মোবাইলের মেমোরি থেকে অন্য মোবাইলের মেমোরিতে ভিডিওটি পরিবর্তনের জন্য যায়। এ অবস্থায় কম্পিউটার দোকানদার ফরহাদ ওই ভিডিওটি গোপনে রেখে দেয়। ভিডিওটি দেখার পর সে ওই তরুণীর চাচাকে ঘটনাটি জানিয়ে ভিডিওটি তাকে দেয়। যা ওই তরুণীর বাড়িতে প্রকাশ পায়। ঘটনাটি জানতে পেরে ওই তরুণী গত ১৯ সেপ্টেম্বর লোকলজ্জায় আত্মহত্যার জন্য কীটনাশক পান করে। তাকে তাৎক্ষনিক রংপুর মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে তরুণী ২৬ সেপ্টেম্বর নিজবাড়িতে ফিরে আসে। এরপর তরুণীর বাবা বাদী হয়ে ওই ঘটনায় উক্ত তিনজনকে আসামী করে থানায় মামলা দেয়।

এদিকে গ্রেফতারকৃত ফরহাদ হোসেনের বাবা দুলাল হোসেন অভিযোগ করে জানান, আমার ছেলে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত নয়। সে বরং ঘটনাটি কারা করেছে তা তরুণীর পরিবারকে জানিয়ে সহযোগিতা করেছিল। সেখানে আমার নির্দোষ ছেলেকে আসামি করা হলো। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। অথচ যারা এই ভিডিও গোপনে ধারণ করে বিভিন্নজনকে দিয়েছে তারা কেউ গ্রেফতার হয়নি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তদের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি করেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে নীলফামারী জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআর