কাজী শাহজাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা
যশোরের শার্শায় মাছ চাষ করে পাঁচ হাজার পরিবারে সুদিন এসেছে। কর্মসংস্থান হয়েছে ৫০ হাজার মানুষের। উপজেলার মাছের চাহিদা মেটানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এখানকার মাছ।
স্থানীয় উদ্যোগের ফলে তৈরি হয়েছে উপজেলা পর্যায়ে দেশের প্রথম ‘ফরমালিন মুক্ত’ মাছের বাজার। উপজেলার ১৫টি বাঁওড়, ২৭১টি ঘের, ১০টি বিল ও ছয় হাজার ৬১৯টি পুকুর মিলে ৬ হাজার ২৩৯ হেক্টর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবুল হাসান। তিনি বলেন, এখানে চাহিদার তিনগুণ বেশি মাছ উত্পাদিত হচ্ছে। প্রতিবছর মাছের চাহিদা সাত হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন আর উত্পাদিত হয় ২২ হাজার ৪৮৫মেট্রিক টন।
মাছ চাষ বেড়ে যাওয়ায় উত্পাদন, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণনে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার।
বাগআচড়া মত্স্য বীজ উত্পাদন খামারের ব্যবস্থাপক আওছাফুর রহমান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ উপজেলার চাষিরা মাছ চাষ করছেন। বছরে প্রতি একরে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। আর মাছ বিক্রি করতে পারছেন আট লাখ টাকার। অধিকাংশ মাছ চাষি দেশি রুই-কাতলের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল সিলভার কার্প, মিনারকার্প, জাপানি রুই, গ্লাসকার্প, মাগুর, কই, পাঙ্গাস, লাইলোনটিকা, তেলাপিয়া, মনোসেক্স ও বাটা মাছ চাষ করেন। তবে ইদানিং বিলুপ্তপ্রায় পাবদা, শিং, মাগুর ও গুলশা মাছের চাষে লাভ বেশি হওয়ায় সেদিকে চাষিরা ঝুঁকছেন।
শার্শার বড় বসন্তপুর গ্রামের কেএম ফিরোজ মামুন ২০০৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ডিগ্রি অর্জনের পর একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি নেন। কর্মক্ষেত্র ছিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল। সেখানে মাছ চাষ দেখে চাকরি ছেড়ে ২০১০ সাল থেকে নিজ গ্রামে মাছ চাষ শুরু করেন। প্রথমে একটু সমস্যায় পড়লেও বছর যেতে না যেতেই এর সুফল পেতে শুরু করেন। আজ তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেছে। ফিরোজ বলেন, ১৫ বিঘা জলকরের চারটি পুকুরে মাছ চাষ করছি। মাস বেতনে দুজনকে ওই পুকুরের সার্বক্ষণিক দেখাশুনার জন্য রেখেছি। মাছ ও পানির গুণাগুণ বুঝে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করার জন্যই আজ আমার সফলতা এসেছে।