করোনার প্রভাব, আর্থিক সংকট, বাল্যবিবাহ

কুমিল্লায় ঝরে পড়েছে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

চলতি বছরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত ছয়টি জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্বে রেজিস্ট্রেশন করলেও মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেনি ৬০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। করোনার প্রভাব, আর্থিক সংকট, আবাসস্থল পরিবর্তন, বাল্যবিবাহসহ নানা কারণে এসব শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। তবে গত ৫ বছরের তুলনায় এ বছর সর্বাধিক সংখ্যক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরে এসএসসিতে ফরম পূরণ করেছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৪ জন। রেজিস্ট্রেশন করেছিল ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৭৫ জন, ঝরে পড়েছে ৩৫ হাজার ৪৯১ জন। এছাড়া এইচএসসিতে ফরম পূরণ করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮০ জন। রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৪ জন, ঝরে পড়েছে ২৪ হাজার ৯৯৪ জন। তবে উভয় পরীক্ষায় ৬০ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ঝরে পড়ার পরও গত পাঁচ বছরের মধ্যে এ বছরই সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ               করতে যাচ্ছে। চলতি বছরের ১৪ নভেম্বর এসএসসি ও ২ ডিসেম্বর এইচএসসি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করে রুটিন প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড।

কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, করোনার প্রভাবে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা শর্তে চালু হয়েছে। দীর্ঘ এ সময়ে করোনার ভয়াবহতার কারণে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে অনেক অভিভাবকই বাসস্থান পরিবর্তন করে গ্রামে চলে গেছেন, তাদের সন্তানদের কেউ কেউ লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়েছে। করোনা অনেক ছেলেমেয়ের শিক্ষাজীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। অনেকে শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়েছে। অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে জীবিকার প্রয়োজনে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে। এসব কারণে এ বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ৬০ হাজারের অধিক পরীক্ষার্থী ঝরে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম জানান, করোনার প্রভাব ও নানা কারণে এ বছর এসএসসি ও এইচএসসিতে ঝরে পড়ার হার বেড়েছে। তবে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা সমন্বিতভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে।