ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় মুখরিত আট বিশ্ববিদ্যালয়

করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময়ের নিস্তব্ধতা ভেঙে গতকাল তরুণদের পদচারণায় মুখরিত হয় দেশের আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এ পরিবেশ তৈরি হয়। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রগুলো হলো—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সিলেট), বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (রংপুর)। এদিকে কোনো ধরনের অসংগতি ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা।

শুক্রবার ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা নিজ নিজ বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের পদচারণা। অভিভাবকরা অপেক্ষা করতে থাকেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা আসেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষার্থীদের সহায়তাকারী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহদী বলেন, দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তরুণদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে। প্রাণহীন ক্যাম্পাসে নতুন প্রাণের আগমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আনন্দিত করবে। আগামী ৫ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। তখন বন্ধুদের কাছে পেয়ে আরো আনন্দিত হব।

গতকাল হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটে মোট ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হয়। সেখানে ৬০ নম্বরের বহুনির্বাচনি ও ৪০ নম্বরের লিখিত অংশ ছিল। উভয় অংশের জন্য ৪৫ মিনিট করে সময় পান শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর আরো ১০ নম্বর করে মোট ২০ নম্বর পাবেন পরীক্ষার্থীরা।

খুলে দেওয়া হয় শাটল ট্রেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ও মানববিদ্যা, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন।

এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় হল পরিদর্শন করতে এসে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সব রকমের জালিয়াতি রোধে আমাদের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। চবির ভর্তি পরীক্ষায় অতীতেও জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে প্রস্তুত।

পরীক্ষার্থীসহ সন্তুষ্ট সবাই

নিজ নিজ বিভাগে পরীক্ষা হওয়ায় সন্তুষ্ট পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসা সুমন আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষা নিজ নিজ জেলায় হওয়ায় কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পেরেছি। এজন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। সামিয়া সোলতানা নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যদিও মেডিক্যালের প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে ঢাবিতে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছে আছে। তাই পরীক্ষা দিয়েছি। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার প্রশ্ন সহজ হয়েছে। পরীক্ষাও ভালো হয়েছে। শাবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবাই সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। ভর্তি জালিয়াতি ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার হল পরিদর্শন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আনোয়ার বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রসমূহ বিকেন্দ্রীভূত করার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কষ্টটা অনেকাংশেই কমে গেছে। সার্বিক নিরাপত্তার দিক থেকেও কোনো সমস্যা হয়নি। পরীক্ষা অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি অসদুপায় অবলম্বন ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভূমিকা পালন করে।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রথম বারের মতো এবার ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভাগীয় সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে কোথাও কোনো ধরনের বিতর্কিত কিছু ঘটেনি। অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চবি, শাবি, বেরোবি, বাকৃবি প্রতিনিধি)