আসিফুর রহমান সাগর
বইমেলায় সবাই বই কিনতে আসেন স্টলে স্টলে ঘুরে বই কেনেন। ছোট ছোট আড্ডায় জমে ওঠে মেলা। এর বাইরেও মেলায় মানুষের আরেকটি আকর্ষণ থাকে মেলামঞ্চের অনুষ্ঠানকে ঘিরে। যারা বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পছন্দ করেন তারা বিকালে শুরু হওয়া সেই আলোচনা শুনতে চলে আসেন অনেক আগেই। কিন্তু সন্ধ্যার পরে মেলামঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল নামে। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে সন্ধ্যার পরে অনেকেই চলে আসেন বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সামনের মূলমঞ্চে। সংগীত আয়োজন তো থাকেই, মাঝে মাঝে কবিতা আবৃত্তি ও নাটকও প্রদর্শিত হয় এ মঞ্চে। ফলে বই কেনার পাশাপাশি বিনোদনের এই ব্যবস্থাও মেলায় আসা মানুষের কাছে ভালোই সমাদর পায়। মেলায় আসা মানুষের কাছে মূলমঞ্চের অনুষ্ঠানের কদরও কম নয়।
গতকাল মেলামঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার, শফি মণ্ডল, সেলিম চৌধুরী, পাগলা বাবুল, রুশিয়া খানম এবং কোহিনুর আকতার গোলাপী। লোকসংগীত আর বাউল গানে জমে ওঠে মেলামঞ্চ। এদিকে, সব বইয়ের স্টলেই চলে এসেছে নতুন বই। তাই সব স্টলেই শুরু হয়ে গেছে বই বিক্রি।
মোড়ক উন্মোচন
গত বছরের মতো এবারও মেলায় রয়েছে মোড়ক উন্মোচন কর্ণার। প্রতিদিনই অনেক বই আসলেও মোড়ক উন্মোচন করান গুটি কয়েক লেখক। গতকাল সোমবার ৯টিসহ এখন পর্যন্ত মোট ১৬০টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
নতুন বই
অমর একুশে গ্রন্থমেলার গতকাল ছিল একাদশতম দিন। এদিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১২৮টি। এর মধ্যে মধ্যে গল্প ২১টি, উপন্যাস ১৬টি, প্রবন্ধ ১০টি, কবিতা ৪৯টি, ছড়া ২টি, শিশুসাহিত্য ১টি, জীবনী ৪টি, রচনাবলি ১টি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ২টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান বিষয়ক ৪টি, ভ্রমণ ৩টি, ইতিহাস বিষয়ক ৫টি, রাজনীতি ১টি, স্বাস্থ্য ১টি, সায়েন্স ফিকশন ২টি এবং অন্যান্য ৫টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে বিশ্বসাহিত্য ভবন থেকে জি এম ফরিদের ছোট গল্প কুহকের দিনরাত্রি, সময় প্রকাশন থেকে পিয়াস মজিদের স্মৃতিকথা নির্জন নোটবুক, চিলড্রেন বুক কালেকশন থেকে আনিসুল হকের গুড্ডু বুড়ার নতুন বোকামি তারপর, সময় প্রকাশনী থেকে সৈয়দ শামসুল হকের নাটক ফজল শেখের শেষ ম্যাজিক ও অন্যান্য, কথাপ্রকাশ থেকে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী’র প্রবন্ধ গণতন্ত্রের অভিমুখে।
বুলবুল চৌধুরীকে শ্রদ্ধাঞ্জলি
গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াত্। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।
কামাল লোহানী বলেন, বুলবুল চৌধুরী নৃত্যের পাশাপাশি প্রাচী নামের উপন্যাস লিখে বাংলা সাহিত্যে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। তাঁর নৃত্য কেবল প্রায়োগিক শিল্পকলা নয়, একই সঙ্গে সমস্ত অসুন্দর এবং কলুষতার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদের নাম।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন- হোসেন উদ্দীন হোসেন, হাবিব আনিসুর রহমান, ড. তাশরিক-ই-হাবিব, মশিউল আলম এবং শিহাব শাহরিয়ার।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং চঞ্চল আশরাফ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন গোলাম সারোয়ার এবং মুঃ আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল।