‘সুখবর-সুখবর-সুখবর। আগামীকাল গরু ও মহিষ জবাই হবে, মাংস কেজির দামে বিক্রি করা হবে।’ ‘মূল্যহ্রাস-মূল্যহ্রাস-মূল্যহ্রাস-বিরাট মূল্যহ্রাস। এই সুযোগ আগামীকাল পর্যন্তই থাকবে।’ ‘চোখের ডাক্তার বসবে, নাক-কান-গলার ডাক্তার বসবে। আগামীকালই চলে আসুন।’ ‘এই ধান বীজের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটবে হাসি।’ এই ধরনের মাইকিং এখন নিত্য যন্ত্রণা। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন কোম্পানির বাল্ব, প্লাস্টিকের চেয়ার, ব্যথা ও চুলকানির মলমসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করতে উচ্চ আওয়াজের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ শেরপুর জেলার নকলাবাসী। রিকশায় ও ইজিবাইকে কখনো একটি মাইক বেঁধে আবার কখনো দুটি মাইক বেঁধে উচ্চ শব্দে দিনে-রাতে চলে এ ধরনের প্রচারণা। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে মাইকিং করতে এখন আর দরকার পড়ে না ঘোষকের। ঘোষণাটি একবার রেকর্ড করে মোবাইলের মেমোরি কার্ডে নিয়ে রিকশায় অথবা ইজিবাইকে মাইক বেঁধে চলতে থাকে দিনভর বিরতিহীন ঘোষণা। সঙ্গে থাকে উচ্চ আওয়াজের মিউজিক। যার ফলে মারাত্মকভাবে শব্দদূষণ হচ্ছে। আর এ কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হূদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়াসহ বিরক্তি সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিশু এবং বয়স্করা। এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হয়, অর্থাত্ তাদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই এভাবে মাইকে প্রচার-প্রচারণার বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
মো. সুখন, নকলা, শেরপুর