চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শক আগ্রহ বাড়ছে

নিজের অভিনয় মুন্সিয়ানায় নাটক ও চলচ্চিত্রে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। যার স্বীকৃতিস্বরূপ দর্শক প্রশংসার পাশাপাশি একাধিবার জয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা, চরিত্রাভিনেতাদের কাজের পরিধিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমানে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

চলচ্চিত্রের কাজ নিয়েই বর্তমানে বেশি ব্যস্ত আছি। ‘জলে জ্বলে তারা, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ ছবিগুলোর শুটিং করছি। এছাড়া আরো কয়েকটি ছবির কাজ হাতে রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত নাটকের কাজও চলছে।

বেশিরভাগ নির্মাতাই গল্প নির্ভর কাজের দিকে ঝুঁকছেন। এটা কী দর্শক চাহিদা, নাকি চলচ্চিত্রের পট পরিবর্তন বলবেন?

চলচ্চিত্রের পট ও দর্শক চাহিদা, দুটোরই পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষ করে পট পরিবর্তন বেশি হচ্ছে। কারণ আমাদের চলচ্চিত্রের যে ফর্মেট সেটা কিন্তু বিশ্বের কোথাও নেই। সব জায়গাতেই কাহিনি নির্ভর ছবি নির্মিত হয়। ফলে এ ধরনের চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শক আগ্রহ বাড়ছে। এতে করে আমাদের চলচ্চিত্রেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।

এ ধরনের কাজ বেশি হওয়ায় আপনাদের মতো চরিত্রাভিনেতাদের সুযোগ বা চাহিদা বাড়ছে কি-না?

দেখুন, এই চর্চা কিন্তু সারাবিশ্বেই ছিল, শুধু আমাদের দেশ ছাড়া। তারা তথাকথিত হিরো-হিরোইনের চেয়ে চরিত্রকে গুরুত্ব দেয়। শুধু প্রেম বা নাচ গান করলেই তো তাদের হিরো-হিরোইন বলা যায় না। আমরাই তাদের ভুল সংজ্ঞায়িত করেছি। তবে এখন গল্প নির্ভর কাজ বেশি হওয়ায় আমাদের কাজের পরিধি বাড়ছে।

দীঘদিন পর নতুন ছবি মুক্তি দর্শকদের আবার হলমুখী করতে পারবে বলে মনে করছেন?

চেষ্টা করতে হবে তাদের হলে ফেরানোর। কারণ দর্শক না থাকলে তো সিনেমা থাকবে না। তাদের সিনেমা দেখাতে হবে। সেটা হলে হোক বা ঘরে বসিয়ে হোক। তবে ছবি কিন্তু হলে বসে দেখার একটা জিনিস। হলে বসে ছবি দেখার যে আনন্দ সেটা কিন্তু মোবাইলে পাওয়া সম্ভব না। তাই আমি চাই তারা হলে গিয়ে ছবি দেখুক এবং ভালো ছবি দেখুক।

হলের পাশাপাশি ওটিটিতেও ছবি মুক্তির প্রচলন শুরু হয়েছে। এই চর্চা সংকটের ভেতর দিয়ে চলা চলচ্চিত্রের জন্য কতটা সহায়ক হবে?

অবশ্যই, চলচ্চিত্রের জন্য এই চর্চা ইতিবাচক। মাধ্যম পরিবর্তন হবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ মানুষ তো প্রতিনিয়ত আধুনিক হচ্ছে। যেমন এক সময় আমরা নাটক দেখতাম মঞ্চে, কিন্তু এখন টিভি, ইউটিউবে দেখি। তারপরও কিন্তু নাটককে নাটকই বলি। তেমনি ছবি দেখার নতুন মাধ্যম এলেও ছবিকে ছবিই বলবো। বরং হলের পাশাপাশি নতুন মাধ্যমে ছবি মুক্তি দিলে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে। প্রত্যেকেই নিজের সময়মতো ছবিটি দেখতে পারবে।

ওটিটি নিয়ে বাবুর পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা কী?

আমার কোনো পরিকল্পনা বা প্রত্যাশা নেই। যখন যে মাধ্যমই আসুক সেখানে ভালো কাজ হলে অবশ্যই করার চেষ্টা করব। তবে হ্যাঁ, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না বা স্থুল হাস্য-রসাত্মক কাজ হলে অবশ্যই সেগুলো বর্জন করব।

আপনি মঞ্চের সঙ্গেও জড়িত আছেন। সংকটের ভেতর দিয়ে চলা মঞ্চের সার্বিক পরিস্থিতি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আমি মঞ্চের মানুষ। যদিও এখন মঞ্চে সেভাবে সময় দিতে পারি না। যখন নিয়মিত মঞ্চে কাজ করতাম তখন থেকেই দেখে আসছি মঞ্চ নাটক নানা সংকটের ভেতর দিয়ে চলছে। তবে আমার প্রত্যাশা, মঞ্চের সুদিন ফিরে আসুক। দর্শকরা মঞ্চ নাটক বেশি দেখুক।