নারীর অর্থনৈতিক মুক্তিতে পোশাকশিল্প

সাদিয়া ইসলাম সম্পা

পোশাকশিল্পে কাজের সুবাদে বাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বেড়েছে। বেড়েছে নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন। তৈরি পোশাকশিল্পের সম্প্রসারণ সমাজে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধন করেছে। পরোক্ষভাবে এসব সেবাখাতে প্রায় আড়াই লাখের মতো মানুষের কর্মসংস্থান হয়। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ছাড়াও তৈরি পোশাকশিল্প সাড়ে ২২ লাখ নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রার লক্ষণীয় পরিবর্তন সাধন করেছে এবং তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। শ্রমজীবী নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন পরিবারে তাদের অবস্থানের পরিবর্তন আনয়নে সক্ষম হয়েছে, আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের কারণে এসব নারী শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। চাকরির সুবিধাদি ভোগকারী বাবা, ভাই এবং স্বামীর ঐতিহ্যগত পিতৃতান্ত্রিক কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সাধন করেছে। অধিকাংশ শ্রমজীবী নারী এখন বিয়ে এবং সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্তের কথা বলতে পারে। তারা পরিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও অংশ গ্রহণ করতে পারছে। সমাজে বাল্যবিবাহের সংখ্যা কমেছে, সেই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে জন্মহার। শ্রমজীবী মেয়েরা তাদের ছোট ছোট ভাইবোনদের যত্ন নিচ্ছে এবং স্কুলে পাঠাচ্ছে। ফলে দেশে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তৈরি পোশাকশিল্প খাতের সম্প্রসারণ নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করছে, যারা উত্পাদনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী বেসরকারি খাত গড়ে তুলেছে। এই উদ্যোক্তাদের একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী। বর্তমানে তৈরি পোশাক কারখানায় অনেক নারী ঊর্ধ্বতন নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত।

পোশাকশিল্প খাতের দরুন নারীরা এখন আর পরিবারের বোঝা হয়ে না থেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এই স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার মাধ্যমে নারী যেমন নিজেকে সমাজের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে তেমনি পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারছে। নারী এখন আর স্বামীর সংসারে নিজেকে বোঝা মনে করে না কিংবা অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে জীবনযাপন করছে না। তারা এখন নিজেকে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করে আত্মসম্মানের সঙ্গে বসবাস করছে। অথচ এইসকল নারীদের অনেকেরই নিজ পরিবারে ছিল না কোনো সম্মান বা অবস্থান। অবদান রাখতে পারত না দেশের একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে। অর্থ উপার্জন করে সাবলম্বী হয়ে এখন পুরুষের পাশাপাশি নারীরা হয়ে উঠেছে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নারী এখন আর কোনো বোঝা নয়। সমাজের উচ্চ শিক্ষিত নারীর পাশাপাশি লেখাপড়া না-জানা কিংবা স্বল্প শিক্ষিত নারীরাও অর্থ উপার্জন করে সহজেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে পুরুষের পাশাপাশি সমান তালে এগিয়ে চলেছে। 

নারীর এই স্বনির্ভরভাবে জীবনযাপন করার মূল ভূমিকা হিসেবে রয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প। তৈরি পোশাকশিল্প একদিকে যেমন লাখ লাখ নারী পুরুষের কর্মসংস্থান করে দিয়েছে, নারীকে করে দিয়েছে স্বাবলম্বী, অন্যদিকে অর্থনীতিতে জিডিপির মাত্রা ক্রমাগত ভাবে বেড়ে চলেছে তৈরী পোশাকশিল্পের কল্যাণে। তাই, উচ্চশিক্ষিত নারীর পাশাপাশি সমাজের লেখাপড়া না জানা কিংবা স্বল্পশিক্ষিত নারীকে স্বাবলম্বী করে তাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে সমাজের ও দেশের নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে তৈরি পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তৈরি পোশাকশিল্প নারীকে মুক্তি দিয়েছে এক প্রকার আর্থিক পরাধীনতার শিকল থেকে। তৈরি পোশাকশিল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এগিয়ে যাক নারী, এগিয়ে যাক দেশ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়