অসহায়, প্রতিবন্ধী, সমাজে অবহেলিত অসহায় মানুষ, যাদের জমি আছে, ঘর নেই- এমন গৃহহীন নাগরিকদের বেছে বেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি অর্থায়নে থাকার ঘর বানিয়ে দিচ্ছেন। আর নিজস্ব ঘর পেয়ে এসব অসহায়দের জীবনই যেন এখন পাল্টে গেছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের অনেকের মতো রাজধানীঘেঁষা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ৩৭২ জন অসহায়ের স্থায়ী ঠিকানা মিলছে অচিরেই।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ ইসমত আরা জানান, ‘আশ্রয়নের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’-এ শ্লোগানকে সামনে রেখে কাপাসিয়া উপজেলায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় পাকা মেঝেসহ ২৪টি বারান্দাসহ টিনের ঘর ও টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে সারাদেশে ৫০ হাজার ঘর নির্মাণ করা হবে। যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নেই এমন নাগরিকদের জন্য এটি প্রধানমন্ত্রীর উপহার। সরকারের দ্বিতীয় আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় উক্ত অর্থ বছরে ৩৭২টি ঘর নির্মাণ করা হবে। দেশব্যাপী চলা এ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত হচ্ছে এক একটি চৌচালা ঘর। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য সাড়ে ১৬ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ১০ ফুট। ঘরের মেঝে পাকা, চারদিকে টিনের বেড়া। ঘরের সাথে একটি উন্নত টয়লেটও নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সাড়ে ৫ ফুট প্রশস্ত একটি বারান্দাও রয়েছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ টাকা। ইউএনও আরো জানান, ঘর নির্মাণ কাজ তদারকি করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। এ কমিটি ঘর নির্মাণ কাজের মান ঠিক রাখার জন্য সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। প্রকল্পের আওতায় ঘাগুটিয়া ইউনিয়নে ১৫৯টি ঘর, কড়িহাতা ইউনিয়নে ৫৬টি ঘর, টোক ইউনিয়নে ৪৫টি ঘর, দুর্গাপুর ইউনিয়নে ৪৮টি, সিংহশী ইউনিয়নে ৮৪টি ঘরসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে মোট ৩৭২ টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী এক মাসের মধ্যে ঘরগুলো নির্মাণ শেষ করে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের নিকট হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
এদিকে প্রথম আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন। উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের জাবর গ্রামের মোঃ সোলেমান বলেন, এ ঘর পাওয়াতে আমার অনেক উপকার হয়েছে। এজন্য আমি শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। সিংহশ্রী ইউনিয়নের বড়বেড় গ্রামের মাজেদা খাতুন বলেন, আমি ও আমার ছেলে কাজ করে খাই। আমাদের ঘর ছিল না। আমার ছেলেকে প্রধানমন্ত্রী একটি পাকা ঘর দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি। আল্লাহ তার মঙ্গল করুন। কড়িহাতা ইউনিয়নের আনজাব গ্রামের রুনা বলেন, আমার বাবার নামে সরকার একটি পাকা ঘর করে দিয়েছে, সাথে একটি টয়লেট আছে। আমরা এখন আশ্রয় পেয়েছি, অনেক ভাল আছি।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণমুখী চিন্তার বাস্তবায়ন হচ্ছে এ প্রকল্প। গুণগতমান ঠিক রেখে প্রকৃত গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। উপকারভোগীরা এর সুফল পাচ্ছে এবং তারা মানসম্পন্ন ঘর পেয়ে সন্তুষ্ট।